কালো তালিকাভুক্ত হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৬ চাতাল কল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৬:১৫ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০২০
ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় প্রায় সাড়ে তিনশ চাতাল কল রয়েছে। প্রতি বছরই এসব চাতাল কল থেকে বিপুল পরিমাণ সিদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহ করে সরকার। প্রতিবার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল সংগ্রহ হলেও এবার আর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি জেলা খাদ্য বিভাগ। এবার ৯৩.৪২ শতাংশ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী।

চুক্তি করেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, আশুগঞ্জ ও সরাইল এবং বিজয়নগর উপজেলার ১৬টি চাতাল কল সরকারি গুদামে কোনো চালই সরবরাহ করেনি। এর প্রভাব পড়েছে চাল সংগ্রহ অভিযানে। চাল সরবরাহ না করার শাস্তি হিসেবে ওই চাতাল কলগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ জানিয়েছে জেলা খাদ্য বিভাগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছর ৪০ হাজার ৯৯৫ মেট্রিক টন সিদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৩১৬টি চাতাল কলের সঙ্গে চুক্তি করে জেলা খাদ্য বিভাগ। চুক্তি অনুযায়ী গত ৭ মে থেকে শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলে চাল সংগ্রহ অভিযান।

কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল সংগ্রহ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় ১৫ দিন মেয়াদ বাড়ানো হলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। এর কারণ হলো চুক্তি অনুযায়ী ১৬টি চাতাল কল কোনো চালই সরবরাহ করেনি।

খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, সময় বাড়ানোর পর ৩৮ হাজার ২৯৭ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ হয়েছে। এর মধ্যে শাপলা রাইস মিল ৩০.১২০ টন সিদ্ধ চাল, শরীফ রাইস মিল ৩৮.১০০ টন, আব্বাস আলী রাইস মিল ৪৩.১৭০ টন , আমেনা খাতুন রাইস মিল ৪০.০৫০ টন, মোমেনা মতি বয়লার রাইস মিল ৪০.০২০ টন, রূপালী রাইস মিল ৪০.০২০ টন, ইয়াকুব আলী রাইস মিল ৪২.৭২০ টন, আশা রাইস মিল ৩৫.৩৪০ টন, উসমান গণি রাইস মিল ৩৮.১০০ টন, শাহজালাল রাইস মিল ৩৬.৬৯০ টন, গাজী রাইস মিল ৭৭.৭০০ টন, মিশ্রির মা বয়লার রাইস মিল ৭৭.৭০০ টন, সাইফুর রাইস মিল ৬৮.৩১০ টন, জাহাঙ্গীর বয়লার রাইস মিল ৫৯.৭৬০ টন সিদ্ধ চাল, চৌধুরী অটো রাইস মিল ৮৪.৫৭০ টন আতপ চাল ও যমুনা রাইস মিল ১৪৬.৭৯০ টন সিদ্ধ চাল সরবরাহের চুক্তি করেও কোনো চাল সরবরাহ করেনি।

আশুগঞ্জ উপজেলা চাতাল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হেলাল শিকদার বলেন, সারাদেশের তুলনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চাল সংগ্রহ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। কিছু মিল ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং একটি মিলের মালিক মারা গেছেন। সেজন্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও চাল সরবরাহ করতে পারিনি। তবে এ বিষয়ে খাদ্য বিভাগ যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটাই আমরা মেনে নিব। কিন্তু আমাদের দাবি থাকবে মিলগুলোর বিরুদ্ধে যেন কোনো ব্যবস্থা না নেয়া হয়।

এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী বলেন, চাল সংগ্রহ অভিযানের নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল সংগ্রহ না হওয়ায় ১৫দিন সময় বাড়ানো হয়। এ সময়ে আমরা ৯৩.৪২ শতাংশ চাল সংগ্রহ করতে পেরেছি। ১৬টি চাতাল কল চুক্তি করেও আমাদেরকে চাল সরবরাহ করেনি। ওই চাতাল কলগুলো কালো তালিকাভুক্ত করতে ঢাকায় সুপারিশ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত এলেই কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।

আজিজুল সঞ্চয়/আরএআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]