যমুনার পেটে গেছে চৌহালির ১৫ গ্রাম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ১০:০২ এএম, ০৪ অক্টোবর ২০২০

যমুনার ভাঙনে পর্যায়ক্রমে বিলীন হয়ে গেছে সিরাজগঞ্জের চৌহালি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম। বিলুপ্তির পথে রয়েছে আরও আটটি গ্রাম।

ইতোমধ্যে এসব গ্রামের পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর, ফসলি জমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে চলে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে আরও পাঁচ শতাধিক বাড়িঘরসহ স্থাপনা। বাড়িঘর হারিয়ে মানুষগুলো ওয়াপদার ওপর আশ্রয় নিয়েছেন।

চলতি বছর দফায় দফায় বন্যার কারণে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। এর ফলে আতঙ্কে রয়েছে নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলোর মানুষ।

এদিকে ভাঙনরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দাবি আদায়ের জন্য মানববন্ধন, সভা সমাবেশ কর্মসূচিও পালন করছেন।

River1

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ কয়েক বছরের ভাঙনে চৌহালী উপজেলার মানচিত্র থেকে ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে ১৫টি গ্রাম। খাস পুখুরিয়া, বাঘুটিয়া, ঘোরজান, স্থল ও উমারপুর ইউনিয়নের বিলুপ্ত এসব গ্রামগুলো হলো, মিটুয়ানি, আরমাশুকা, বীরমাশুকা, বীরবাউনিয়া, খাসপুখুরিয়া, বাঘুটিয়া, সম্ভুদিয়া, চৌবাড়িয়া, হাপানিয়া, চর সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়া, হাটাইল, কাশেমগঞ্জ, দত্তকান্দি, পয়লা ও হিজুলিয়া।

বর্তমানে ভাঙনের মুখে রয়েছে- খাস পুখুরিয়া উত্তর, খাস পুখুরিয়া দক্ষিণ, রেহাই পুখুরিয়া, চরনাকালিয়া, চরবিনানই, চরসলিমাবাদ, ভুতের মোড়সহ প্রায় আটটি গ্রাম। এসব গ্রামের পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে।

চৌহালী খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের মেটুয়ানি বিসিএস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ভাঙনে এলাকার বাড়িঘরের পাশাপাশি চৌহালি সদর থেকে পাথরাইল পর্যন্ত নয় কিলোমিটার পাকা সড়কটির অধিকাংশই নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে মেটুয়ানি বিসিএস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের টিনসেড ভবনসহ অসংখ্য স্থাপনা।

River1

কামরুল ইসলাম, আইয়ুব আলী, এহিয়া খান, সেলিম হোসেন, আব্দুল মালেক, আবু মুছা, সালাউদ্দিনসহ গ্রামবাসী জানান, চলতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই ভাঙন দেখা দেয়। গত ৫ মাস ধরে কমবেশি ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনে ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও ফসলি জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনাও বিলীন হয়েছে। এখনও ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে মানুষ বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে।

এ বিষয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহার সিদ্দিকী বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চৌহালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ভাঙন চলছে। এ বছর ভাঙনের মাত্রা অনেক বেশি। এখন পর্যন্ত ভাঙনরোধে কার্যকরি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নিরুপায় হয়ে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষগুলো আন্দোলনে নেমেছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (চৌহালী অংশের দায়িত্বে) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভাঙন রোধে এখন ওই এলাকায় জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলার কাজ চলছে। এছাড়া ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেয়া আছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।