৪০০ ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে খুনিদের ধরল পুলিশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৬:৪১ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০২০

প্রায় এক মাস পর কুমিল্লার লালমাই উপজেলার কিশোর শাহপরান (১৩) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান আসামি নুর উদ্দিনসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশার জন্যই শাহপরানকে খুন করা হয়। স্থানীয় বেতাগাঁও গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে শাহপরান। লাকসাম থেকে বাগমারা সড়কের ১৩টি সিসি ক্যামেরার প্রায় চারশ ঘণ্টার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে খুনিদের ধরতে সক্ষম হয় পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিম উল আহসান।

আজিম উল আহসান বলেন, ১১ সেপ্টেম্বর সকালে লালমাই থানার বড় চলুন্ডা ব্র্যাক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শাহপরান তার বড় ভাইয়ের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মেরামত করতে বাগমারা বাজারে যায়। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে যায়নি সে। তার খুঁজে এলাকায় মাইকিং করে পরিবার।

সন্ধ্যায় ডাকাতিয়া নদীর পাশের একটি ঝোপ থেকে হাত-পা ও গলায় রশি বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন শাহপরানের বাবা আবদুল মালেক।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিম উল আহসান বলেন, মামলার পর ওই সড়কের ১৩টি সিসি ক্যামেরার চারশ ঘণ্টার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। ফুটেজের একটি অংশে পাঁচ সেকেন্ডের ভিডিওতে অটোরিকশাসহ শাহপরান এবং নুর উদ্দিনকে দেখা যায়। এরপর নুর উদ্দিনকে গ্রেফতার করতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

বুধবার জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নুর উদ্দিনসহ অন্যদের গ্রেফতার করা হয়। এরপরই ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসে। ভাড়ায় অটোরিকশায় উঠে শাহপরানকে খুন করে ঝোপের ভেতর মরদেহ রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যান নুর উদ্দিন। অটোরিকশাটি লাকসাম নিয়ে গোলাপ হোসেনের কাছে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তিনি।

গ্রেফতারকৃত নুর উদ্দিন (২২) লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামের দুধু মিয়ার ছেলে। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন- একই উপজেলার নাগরীপাড়া গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে শহীদ উল্লাহ (৩৫), ভুলুইন গ্রামের আবুল হাসমের ছেলে গোলাপ হোসেন (৩০) এবং লাকসাম উপজেলার শামসুল হকের ছেলে নাছির উদ্দিন (৩২)।

লালমাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, আমাদের হাতে এ হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু ছিল না। সিসিটিভির ফুটেজে খুনি নুর উদ্দিনকে শনাক্ত করা হয়। এরপর বুধবার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকেসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ছিনতাইকৃত অটোরিকশাসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে অটোরিকশা চালক শাহপরানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন খুনিরা।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন, ডিআইও (ওয়ান) মাঈন উদ্দিন প্রমুখ।

মো. কামাল উদ্দিন/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।