মোটরসাইকেলেই জীবিকা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০২:৪১ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২০

কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের জালালের মোড় নামক স্থান থেকে যাত্রীদের দূর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা পাড়ি দিয়ে চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে দেন শতাধিক মোটরসাইকেল চালক।

সকাল হলেই তারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন জালালের মোড় এলাকায়। যাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করে চলে যান জেলার মোল্লারহাট, কালিগঞ্জ, ওয়াপদা বাজার, নয়ারহাটসহ চৌমুহনী বাজার এলাকায়।

জানা যায়, জালালের মোড় নামক স্থান থেকে উলিপুর উপজেলার কালিগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তাটি দূর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে পারে না। সেখান থেকে প্রতিদিন শতাধিক মোটরসাইকেল চালক যাত্রী বহন করে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেন।

দূরত্ব অনুযায়ী যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০ টাকা পর্যন্ত নেন। এতে তাদের একেক জনের সারা দিনে আয় হয় ৬০০-৭০০ টাকা। তেল খরচ বাবদ ব্যয় হয় ১৫০-২০০ টাকা। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে তারা সংসারের খরচ বহন করেন।

kurigram

মোল্লারহাট এলাকার মোটরসাইকেল চালক নুরইসলাম বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যাত্রীদের মোটরসাইকেলে বহন করি। এ থেকে যে আয় হয় সেটা দিয়েই সংসার চলে।

গারুহারা এলাকার মোটরসাইকেল চালক আল আমিন বলেন, আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট খারাপ। অন্যান্য যানবাহন চলাচল সম্ভব হয় না। তাই মোটরসাইকেল কিনেছি। তা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। এতে আমাদের সারা দিনে আয় হয় ৬০০-৭০০ টাকা।

একই এলাকার মোটরসাইকেল চালক রাশেদ জানান, চালকরা জালালের মোড় থেকে মোল্লারহাট, কালিগঞ্জ, ওয়াপদা বাজার, নয়ারহাটসহ চৌমুহনী বাজার এলাকা পর্যন্ত মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন করে ওইসব এলাকায় পৌঁছান।

বেগমগঞ্জ এলাকার যাত্রী মুসা শেখ জানান, তিনি বেগমগঞ্জ থেকে নিয়মিত কুড়িগ্রাম শহরে যাতায়াত করেন। রাস্তাটি দিয়ে অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে না পারায় মোটরসাইকেলই একমাত্র ভরসা। তবে মোটরসাইকেলের ভাড়া বেশি হওয়ায় স্বপ্ল আয়ের মানুষের পক্ষে কষ্টসাধ্য।

kurigram-1

কালিগঞ্জ এলাকার যাত্রী মালেকা জানান, ঢাকায় ছেলে চাকরি করে। তাই সেখানে গিয়েছিলাম। ঢাকা থেকে এলাম। এখন কালিগঞ্জে যাব। কিন্তু জালালের মোড় থেকে কালিগঞ্জ পর্যন্ত দূর্গম এলাকা হওয়ায় মোটরসাইকলই যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। ঢাকা থেকে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে এসেছি। কিন্তু মোটরসাইকেলে সেসব জিনিসপত্র বহন করা সম্ভব না হওয়ায় এখন সেগুলো অন্যের দায়িত্বে রেখে যাচ্ছি।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, সারাদেশেই মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন করে অনেক মানুষই জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু তারা মানুষজনের কাছে ভাড়া বেশি নেন। তাদের উচিত ওইসব এলাকার যাত্রীদের প্রতি মানবিক হওয়া। এলাকার অধিকাংশ মানুষই নিম্ন আয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষ। এছাড়া মোটরসাইকেল চালকদের উচিত সাবধানে ড্রাইভ করা যাতে কোনো প্রকার দুর্ঘটনা না ঘটে।

এফএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]