কোদাল হাতে জেলা প্রশাসক, ৯০০ একর ফসলি জমির জলাবদ্ধতার অবসান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৯:৩৯ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২০

দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে অবসান হলো সাত গ্রামের ৯০০ একর ফসলি জমির জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতার কারণে ফুলবাড়ি উপজেলার ৯০০ একর জমি অনাবাদি ছিল দীর্ঘ চার বছর ধরে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হওয়ায় হাসি ফুটেছে উপজেলার দুই ইউনিয়নের সাত গ্রামের কয়েক হাজার কৃষকের মুখে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফুলবাড়ী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাইপাড়া এলাকায় কোদাল হাতে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করেন।

কৃষকরা জানান, দীর্ঘ চার বছর ধরে জলাবদ্ধতা থাকায় ফুলবাড়ির খয়েরবাড়ি-দৌলতপুরসহ আশপাশের প্রায় তিন হাজার বিঘা জমিতে কোন চাষাবাদ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে দাবি জানালেও কোনো উপকার হয়নি। সর্বশেষ দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক নিজেই জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে নামেন।

jagonews24

মহদিপুর গ্রামের ৫০ ঊর্ধ্ব কৃষক নাজিম উদ্দিন বলেন, আমার চার বিঘা জমি রয়েছে। গত চার বছর থেকে সেই জমিতে জলাবদ্ধতা কারণে চাষাবাদ করতে পারছিলাম না।

কৃষক গোলাম রব্বানী বলেন, পৈত্রিক সূত্রে আট বিঘা জমি পেয়েছি। এ জমিতে চাষাবাদ করে চলতাম। কিন্তু গত চার বছর থেকে জলাবদ্ধতার কারণে চাষাবাদ করতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছি।

খয়েরবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আবু তালেব মণ্ডল বলেন, দীর্ঘ চার বছর থেকে সাতটি গ্রামের ৯০০ একর জমি পানিতে তলিয়ে ছিল। ফলে অচল হয়ে পড়ে কয়েক হাজার পরিবার। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হওয়ায় হাসি ফুটেছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মুখে। এই জন্য ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসককের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

jagonews24

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম বলেন, ‘ফুলবাড়ি উপজেলার খয়েরবাড়ি ও দৌলতপুরের প্রায় দুই হাজার একর জমিতে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা থাকায় কৃষকরা ফসল ফলাতে পারতো না। বিষয়টি এলাকাবাসী জানালে সরেজমিনে পরিদর্শন করি। কয়েক হাজার পরিবার যাতে ফসল ফলাতে পারে সেজন্য একটি ৩০০ ফিটের ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়। সে প্রেক্ষিতেই আজ (শনিবার) এলাকাবাসীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এবং স্বেচ্ছাশ্রমে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ড্রেন নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি আমিই তদারকি করব। এছাড়া ড্রেন নির্মাণের ফলে যেসব কৃষকের ক্ষতি হয়েছে তারাও ক্ষতিপূরণ পাবেন।

এ সময় ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিল্টন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল আলম সুমন, সদ্য যোগদানকারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিয়াজ উদ্দিন, সহকারী ভূমি কমিশনার কানিজ আফরোজসহ উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা, খয়েরবাড়ী ও দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত কয়েক হাজার কৃষক উপস্থিত ছিলেন।

এমদাদুল হক মিলন/ এএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]