চিকিৎসকদের উদারতায় কুলসুম ফিরে পেলেন নতুন জীবন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২০

পেটের মধ্যে ২০ কেজি ওজনের টিউমার নিয়ে ভুগছিলেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খানপুর গ্রামের কুলসুম বেগম (৬০)। অপারেশনের টাকা ছিল না তার পরিবারের। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েন কুলসুম বেগম। তবে চিকিৎসকদের উদারতায় নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন তিনি।

কুলসুম বেগম তালা উপজেলার খানপুর গ্রামের নওশের আলী বিশ্বাসের স্ত্রী।

কুলসুম বেগম বলেন, আট মাস ধরে টিউমার ও লিভার সিরোসিস রোগে ভুগছিলাম। গরু-ছাগল বিক্রি করে চিকিৎসার পেছনে খরচ করলেও কোনো উপকার হয়নি। প্রচুর শ্বাসকষ্ট হতো। কোনো খাবার খেতে পারতাম না। ১০-১৫ দিন আগে ডা. মনোয়ার হোসেনের কাছে যাই। তিনি সব কিছু দেখে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন। সেগুলো করার পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হই। ভর্তির পর ডাক্তাররা অপারেশন করে টিউমার বের করেছেন। এখন শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে না, খাবারও খেতে পারছি।

কুলসুম বেগমের নাতি রবিউল ইসলাম বলেন, নানিকে খুলনা মেডিকেলে নিয়ে চিকিৎসার জন্য যাতায়াত খরচসহ আনুসঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধপত্রের খরচ দিয়েছেন আমাদের ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাংবাদিক নজরুল ইসলাম। আর ডাক্তাররা কোনো টাকাই নেননি। যারা সহযোগিতা করে নানিকে মৃত্যুর পথ থেকে বাঁচিয়ে আনলো তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

satkhira-kulsum02.jpg

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোববার (২৫ অক্টোবর) কুলসুমের অপারেশনে অংশ নেন খুলনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (সার্জিক্যাল অনকোলজি) ডা. মো. মনোয়ার হোসেন, সহকারী অধ্যাপক ডা. শহিদুল ইসলাম ও মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রব।

ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, কুলসুম বেগম অত্যন্ত গরিব। চিকিৎসা করার মত তাদের কোনো টাকা নেই। সাতক্ষীরার চেম্বারে তাকে প্রথম দেখার পর কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেই। এরপর খুলনা মেডিকেলে ভর্তির পরামর্শ দেই। সেখানেই অপারেশন করা হয়েছে কুলসুমের। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কুলসুমের বাঁচার আশা অনেকটা ছেড়ে দিয়েছিলাম। তবে ঝুঁকি নিয়েই অপারেশন সফল হয়েছে।

তিনি বলেন, বেলুনের মত পেটে ২০ কেজি ওজনের টিউমারের মধ্যে কিউনিও ঢুকে ছিল। অপারেশন শতভাগ সফল হয়েছে। রোগী এখন সুস্থ। ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবে। রোগীকে সুস্থ করে তোলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

আকরামুল ইসলাম/আরএআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]