রং নম্বরে পরিচয়, স্বামীর ঘর ছেড়ে গৃহবধূর সর্বনাশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ০৯:২০ এএম, ২৯ অক্টোবর ২০২০
ফাইল ছবি

পঞ্চগড়ে মাইক্রোবাসে রাতভর এক গৃহবধূকে (২০) ধর্ষণের অভিযোগে দুই ধর্ষক ও তাদের দুই সহযোগিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন- ময়দানদিঘী ইউনিয়নের সোনাপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলাম রতন (২৫), একই এলাকার অটোরিকশার চালক আমিরুল ইসলাম (৩০), পঞ্চগড় পৌরসভার নিমনগর এলাকার মাইক্রোবাস চালক শহিদুল ইসলাম (২৭) ও সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের শিকারপুর এলাকার নুর আলম (২৪)।

এদের মধ্যে জাহিদুল ইসলাম রতন ও মাইক্রোবাস চালক শহিদুল ইসলামকে ধর্ষক হিসেবে এবং আমিরুল ইসলাম ও নুর আলমকে ধর্ষণে সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের ওই গৃহবধূর সঙ্গে সম্প্রতি রং নম্বরের ফোন থেকে ময়দানদিঘী ইউনিয়নের সোনাপাড়া এলাকার যুবক জাহিদুল ইসলাম রতনের পরিচয় হয়। রতন মাঝে মধ্যে ওই গৃহবধূকে ফোন করতেন।

গত ২৬ অক্টোবর সোমবার দুপুরে ওই গৃহবধূ তার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করেন। বিকেলে রতন ওই গৃহবধূকে ফোন করে বিয়ের প্রস্তাব দেন। গৃহবধূও প্রলোভনে পড়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে ময়দানদিঘী বিআরটিসি কাউন্টারে যান।

সেখানে রতন ওই গৃহবধূকে বিয়ের জন্য কাজী অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আমিরুলের অটোরিকশায় করে বোদা বাজার হয়ে পঞ্চগড় রেলস্টেশনে নিয়ে যান। খাওয়া দাওয়ার পর গভীর রাতে শহিদুলের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে মালাদাম এলাকার এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে আবার ওই গৃহবধূকে নিয়ে পঞ্চগড় মৈত্রি ফিলিং স্টেশনে সামনে এনে গাড়ি থামান।

এ সময় ওই গৃহবধূ তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে চিৎকার করলে তারা তাকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে রতন ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। পরে চালক শহিদুলও তাকে ধর্ষণ করেন।

ভোর পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণের সময় অটোরিকশার চালক আমিরুল ও নুর আলম বাইরে পাহারা দেন। ভোরে ওই গৃহবধূকে মোটরসাইকেলে নিয়ে বোদা বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দিয়ে চলে যান রতন। খবর পেয়ে ওই গৃহবধূর স্বামী তাকে সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে যান।

বাড়িতে ফিরে মঙ্গলবার রাতে ওই গৃহবধূ তার স্বামীকে নিয়ে বোদা থানায় গিয়ে দুই ধর্ষকসহ চারজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পর রাতেই রতনকে গ্রেফতার করে বোদা থানা পুলিশ। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী অপর ৩ আসামিকেও গ্রেফতার করা হয়। তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়।

বোদা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সায়েম মিয়া জানান, ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেছেন। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

সফিকুল আলম/এফএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]