সুলতানা পারভীনকে ভুলবেন না কুড়িগ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৩:৫৯ পিএম, ৩০ অক্টোবর ২০২০

কুড়িগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণে মুক্তিযুদ্ধের ডকুমেন্টারি ‘বীরগাঁথা’ নামের বইটি সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনের এক অনন্য অবদান। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরদের অবদান ও বীরত্ব তুলে ধরতে বীরগাঁথা বইটি লিপিবদ্ধ করেন সুলতানা পারভীন।

মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান চিরস্মরণীয় করে রাখতে এ মহতী উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন করেছেন সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডিসি সুলতানার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন উৎসাহী ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি আন্তরিকতার সঙ্গে বইটির বাস্তব রূপ দিয়েছেন।

বীরগাথাঁ বইটি কম্পিউটারে স্ক্যান করে জাতীয় আর্কাইভ, কুড়িগ্রামের উত্তরবঙ্গ জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি করে সেট সংরক্ষণ করা হয়।

এই বইয়ের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিয়ে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

বীরগাঁথার পৃষ্ঠা সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। ছয়টি ভলিউমের ১৩২টি খণ্ডের বইটিতে জেলার নয় উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের নানা ইতিহাস-ঐতিহ্য স্থান পেয়েছে। এতে প্রয়াত এক হাজার ৫৭১ জন মুক্তিযোদ্ধার তথ্যসহ চার হাজার ২৭৩ জন মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে নানা তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি দুই হাজার ৭৩০ জন জীবিত মুক্তিযোদ্ধার দুই হাতের ছাপ, স্বাক্ষর বা টিপসই, মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ কিছু ছবি, সম্মুখসমরের গল্প ডকুমেন্টারিতে স্থান পেয়েছে।

সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রাম ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা অসীম বীরত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করে কুড়িগ্রামকে হানাদারমুক্ত করেন। জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখায় জেলার অনেক মুক্তিযোদ্ধা বীর-বিক্রম ও বীর-প্রতীক উপাধি পেয়েছেন। বিশেষ করে প্রয়াত বীর-প্রতীক তারামন বিবি কুড়িগ্রাম জেলাকে মহিমান্বিত করেছেন।

কুড়িগ্রামের নয় উপজেলার সমাজসেবা অফিস সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম সদরে ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ৬২৯ জন। তার মধ্যে জীবিত ৩৪৮ জন। মারা গেছেন ২৮১ জন।

রাজারহাট উপজেলায় ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ৩৩৭ জন। তার মধ্যে জীবিত রয়েছেন ২০১ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩৬ জন। উলিপুর উপজেলায় ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ৭৩১ জন। তার মধ্যে জীবিত রয়েছেন ৪৪৪ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ২৮৭ জন।

চিলমারী উপজেলায় ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ৩৫২ জন। জীবিত রয়েছেন ২১৮ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩৪ জন। রৌমারী উপজেলায় ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ২২৪ জন। জীবিত রয়েছেন ১৩৬ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৮৮ জন।

রাজীবপুর উপজেলায় ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ৭৩ জন। তার মধ্যে জীবিত রয়েছেন ৫০ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ২৩ জন। নাগেশ্বরী উপজেলায় ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ৬০৮ জন। তার মধ্যে জীবিত রয়েছেন ৩৯৭ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ২১১ জন। ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ৮৭৩ জন। তার মধ্যে জীবিত রয়েছেন ৫০৮ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৬৫ জন।

ফুলবাড়ী উপজেলায় ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ৪৭০ জন। তার মধ্যে জীবিত রয়েছেন ৩০০ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭০ জন। সবমিলে জেলায় সর্বমোট ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা চার হাজার ২৯৭ জন। তার মধ্যে সর্বমোট জীবিত মুক্তিযোদ্ধা দুই হাজার ৬০২ জন। সর্বমোট মৃত্যুবরণকারী মুক্তিযোদ্ধা এক হাজার ৬৯৫ জন।

কুড়িগ্রামের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সিরাজুল ইসলাম টুকু বলেন, আমাদের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন কুড়িগ্রামবাসীর জন্য যে কাজগুলো করেছেন তা কুড়িগ্রামবাসী কোনোদিন ভুলবে না। তিনি কুড়িগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীরগাথাঁ নামে যে বইটি লিপিবদ্ধ করেছিলেন তা বাংলাদেশে প্রথম। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের হাতের ছাপ সংরক্ষণ এবং তাদের ছবি সংরক্ষণ করেছেন। এর মধ্যে অনেক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনরা হাতের ছাপ ও ছবি দেখতে আসেন। তিনি থাকাকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নকুঁড়িতে ও সার্কিট হাউসে সংবর্ধনা দিয়েছিলেন। কখন কোথায় কোন মুক্তিযোদ্ধা কি সমস্যায় পড়তেন তা সমাধানে এগিয়ে আসতেন সুলতানা পারভীন। তিনি গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধাদের ঘরের ব্যবস্থা করেছেন। অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন। কোনোদিন কোনো মুক্তিযোদ্ধা তার কাছ থেকে খালি হাতে ফেরেননি।

সিরাজুল ইসলাম টুকু আরও বলেন, আমার জীবনে সুলতানা পারভীনের মতো আন্তরিক জেলা প্রশাসক দ্বিতীয়জন দেখিনি। তিনি আমাদের মায়ের মতো খেয়াল রাখতেন। শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের নন; তিনি কুড়িগ্রামবাসীর সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখতেন। কিন্তু আমরা তো অকৃতজ্ঞ। যার ফলে তাকে ভালো মনে করিনি। আমরা মনে করি যারা তাকে মিথ্যা ষড়যন্ত্রে ফেলেছেন তারা কুড়িগ্রামবাসীর ভালো চাননি। যেদিন ভিডিও কনফারেন্সে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করা হয়েছিল সেদিন তিনি কুড়িগ্রামের কোন জায়গায় কোন উন্নয়ন দরকার, কোথায় কি করলে ভালো হবে তা উপস্থাপন করেছিলেন। তখন তাকে দেখে আমার মনে হয়েছে তিনি কুড়িগ্রামের স্থানীয় মানুষ ও কুড়িগ্রামের একজন রাজনৈতিক নেতা। তার কার্যক্রম দেখে আমি গর্ববোধ করছি। তার মতো মানুষ কুড়িগ্রামবাসীর জন্য দরকার।

কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা ইউনিট কমান্ডের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা, কুড়িগ্রাম রিভার ভিউ স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও জেলা স্কাউটের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন বহু অবদান রেখেছেন। তার কর্মকালীন বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীরগাথাঁ নামে একটি বই সংকলন করেছেন। যা অনন্য একটি অবদান। এটি বাংলাদেশের অন্য জেলায় হয়নি; শুধুমাত্র কুড়িগ্রাম জেলায় হয়েছে। এটির জন্য যে ব্যয় প্রয়োজন ছিল সেটি তিনি নিজেই বহন করেছেন। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে বীরগাথাঁ বইটি সংকলন করেছেন তিনি। এটি সারাদেশে একটি নজির স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, প্রায় চার হাজার ৫০০ জন মুক্তিযোদ্ধার রক্তমাখা হাতের ছাপ সংগ্রহের মাধ্যমে প্রতিজন মুক্তিযোদ্ধার সার্বিক তথ্যাবলী লিপিবদ্ধ করে বীরগাথাঁ বইটি সংকলন করেছেন তিনি। এটি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি অনন্য নজির। মুক্তিযোদ্ধারা যখন যে কাজের জন্য তার কাছে গিয়েছিলেন তা সম্পন্ন করেছেন ডিসি সুলতানা। তার কাছ থেকে কেউ খালি হাতে ফেরেননি। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তিনি ছিলেন মুক্তহস্ত। যখন যা প্রয়োজন, যেভাবে প্রয়োজন সেভাবে তিনি সাড়া দিতেন। আগে কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এত কাজ করেননি।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সহ-সভাপতি নবকুমার সরখেল ববি বলেন, সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন কুড়িগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের হাতের ছাপ সংগ্রহের মাধ্যমে বীরগাঁথা নামে একটি ডকুমেন্টরি বই সংকলন করেছিলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যেসব ভুমিকা রেখেছেন তা অবিস্মরণীয়। তিনি কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসক (ডিসি) থাকাকালীন ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর জীবিত মুক্তিযোদ্ধা ও মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবাররকে সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও মেডেল দিতেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের ও মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্ত্রীদের যেকোনো কাজ তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন করতেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক জেলা ডেপুটি কমান্ডার আ: আফজাল হোসেন বলেন, সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিধবা পরিবারদের নিয়ে অনেক কর্মকাণ্ড করেছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের হাতের ছাপ নিয়েছেন। কুড়িগ্রাম জেলায় কতজন জীবিত মুক্তিযোদ্ধা আছেন তাদের একটি গেজেট তৈরি করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কেন তিনি সেটি শেষ করতে পারেননি আমরা অবগত নই। তিনি স্বাধীনতা দিবসে ও বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারদের ডেকে নিয়ে আপ্যায়ন করাতেন।

সাবেক জেলা ইউনিট কমান্ডের সদস্য মো. আনিছুর রহমান বাবুল বলেন, কুড়িগ্রাম জেলায় স্বাধীনতার পর থেকে যত জন জেলা প্রশাসক এসেছেন তার মধ্যে সুলতানা পারভীন অন্যতম। তার অবদান আমরা কখনও ভুলব না। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় যতটুকু করেছেন আমার মনে হয় না অন্য কোনো জেলা প্রশাসক করেছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের যেকোনো সমস্যা সমাধান করতেন। আমরা কুড়িগ্রাম জেলার সকল মুক্তিযোদ্ধা তার কাছে ঋণী।

কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্রাহাম লিংকন বলেন, সুলতানা পারভীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে কেমন ছিলেন এটি এখন বলাটা যতটা কঠিন আগামী দিনে এটি সহজ হবে। কারণ মানুষের কোনো কাজের মূল্যায়ন করতে গেলে সময় দিতে হবে। আমি মনে করি তিনি যে পরিমাণ কাজ করেছেন তার বিদায়টা সে পরিমাণ মর্যাদাকর ছিল না। আজ কুড়িগ্রামবাসী হয়তো সেটি উপলব্ধি করছে না। আগামীতে কোনো একদিন সেটি উপলব্ধিতে আসবে।

তিনি বলেন, কেউ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করুক আর নাই করুক সুলতানা পারভীনের অনেকগুলো কাজ সুদূরপ্রসারী। বিশেষত আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে তার নিজস্ব একটা আবেগ ছিল। তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি আহত হয়েছিলেন। তিনি একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ছিলেন ইপিআরে, ছিলেন পুলিশেও। এজন্যই পারিবারিকভাবে চেতনা লালন করেছেন সুলতানা পারভীন। আমরা অনেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হলেও রাজনৈতিক কারণে চেতনাকে লালন করি না। এটাকে আত্মসমর্পণও বলতে পারি।

আব্রাহাম লিংকন আরও বলেন, আমার জেলার সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যে কাজটি শুরু করেছিলেন তা অন্য জেলায় হয়নি। সব জেলাতেই জেলা প্রশাসক আছেন। সব জেলাতেই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন পরিচালিত হচ্ছে। সব জেলায় কিন্তু সম্ভব হয়নি। এটি চেতনার ব্যাপার। এটি আবেগের ব্যাপার। সেদিক থেকে আমি সুলতানা পারভীনের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমি শুরুতেই বলেছি, তার কাজের মূল্যায়ন একদিন কুড়িগ্রামবাসী করবেই।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন কুড়িগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের হাতের ছাপ সংগ্রহের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য সংবলিত বীরগাঁথা নামের ডকুমেন্টারি বই সংকলন করেছেন। তার অসমাপ্ত কাজগুলো আমি পর্যায়ক্রমে সমাপ্ত করব। প্রধানমন্ত্রীসহ যে সমস্ত ব্যক্তি ও মহলে বীরগাঁথা বইটি পৌঁছানোর কথা ছিল সে সমস্ত স্থানে পৌঁছে দেব।

মো. মাসুদ রানা/এএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]