প্রেমিকাকে কুপিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রেমিকের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৭:০০ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০২০

দিনাজপুরে প্রেমঘটিত কারণে প্রেমিকাকে কুপিয়ে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ও ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা মামলায় মাহফুজ আলম ওরফে মানিক নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে, ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন বিচারক।

রোববার (২২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় দিনাজপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমদ ভুঞা আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

আসামি মানিক দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার চাকাই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মানিকের সঙ্গে একই উপজেলার শীতলাই চৌধুরীপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে রোমানা আক্তার মৌর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হলে তাদের এ সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। এরই মধ্যে মানিক বিয়ে করে দুই সন্তানের বাবা হন। কিন্তু তারপরও মৌকে ভুলে যাননি তিনি।

২০১৫ সালের ১৬ জুলাই সন্ধ্যার পর মৌ মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরছিলেন। ওই সময় তার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে কালীরডাঙ্গা নামকস্থানে আসামি মানিক অবস্থান করছিলেন। মৌ তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মানিক ব্যাগ থেকে ধারালো দা বের করে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। এ সময় মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন মামুন। এতেও তার মৃত্যু না হওয়ায় ইটদিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় তিনি।

এই ঘটনায় নিহত মৌর বাবা আব্দুল মালেক বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে ১৭ জুলাই মামলা করেন। পরে মৌর ডায়েরি দেখে অভিযান চালিয়ে ২৬ জুলাই আসামি মানিককে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ২৭ জুলাই তাকে আদালতে সোপর্দ করলে তিনি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বিচারক আজ রোববার আসামির উপস্থিতিতে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেন। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ডের রায় দেন।

এমদাদুল হক মিলন/এসআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।