তিন মাসের শিশুকে অপহরণের পর হত্যা, ৩ জনের যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০১:৩৩ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০২০

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ঘুমন্ত মা-বাবার কোল থেকে ৩ মাসের শিশু আব্দুল্লাহকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় ৩ জনকে যাবজজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বাগেরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. নূরে আলম।

রোববার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে আদালতের বিচারক চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রায় দেন।

এ সময় তিন আসামি মো. হৃদয় ওরফে রাহাত হাওলাদার (২১), মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার (২২) ও মো. ফায়জুল ইসলাম (২৮) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের সবার বাড়ি মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী গ্রামে।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, গত বছরের ১১ মার্চ রাতে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিশারীঘাটা গ্রামের রেশমা বেগম তার ৩ মাসের সন্তান আব্দুল্লাহকে নিয়ে স্বামী দলিল লেখক মো. সিরাজুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুমন্ত মা-বাবার কোলের ভেতর থেকে রাত সাড়ে ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

ঘুম থেকে জেগে তারা দেখতে পান বিছানায় আব্দুল্লাহ নেই। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও নেই। জানালার গ্রিল ও দরজা খোলা রয়েছে। ঘরের অন্যান্য রুমের সকল দরজাও বাইরে থেকে আটকে রেখেছে দুর্বৃত্তরা।

পরে তারা পুলিশে খবর দেয়। ওই দিনই অপহৃত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত অপহরণকারীদের নামে মামলা দায়ের করেন। পরে শিশুটির মুক্তির জন্য মোবাইল ফোনে পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা। ‘মুক্তিপণ’ দাবিতে করা মোবাইল ফোনটির সূত্র ধরে শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ অভিযান শুরু করে।

ওই সময় সন্তানকে ফিরে পেতে বাবা মো. সিরাজুল ইসলাম সোহাগ অপহরণকারীদের চাহিদামতো ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণও পরিশোধ করেন।

পরে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে প্রধান আসামি মো. হৃদয় ওরফে রাহাত হাওলাদারসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার ৭ দিন পর প্রধান আসামি মো. হৃদয়ের দেখানো এলাকায় একটি মৎস্য খামারের টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোরেলগঞ্জ থানার এসআই মো. আব্দুল মতি দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বছরের ৫ অক্টোবর আদালতে প্রধান আসামি মো. হৃদয়সহ ৩ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ৩ ঘাতককে যাবজজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

মামলার বাদী শিশুটির বাবা দলিল লেখক মো. সিরাজুল ইসলাম সোহাগ, মা রেশমা বেগম ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি রণজিৎ কুমার মন্ডল রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. এনামুল হেসেন জানান, তার মক্কেল আদালতে ন্যায়বিচার পায়নি। সে কারণে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

শওকত আলী বাবু/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]