সরকারি গাছ কেটে রেলওয়ে কর্মকর্তা বললেন, সাধারণ মানুষ লাগিয়েছে

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৫:১৯ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০২০

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নসরতপুর রেললাইন থেকে দুটি বিশাল গাছ বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-প্রকৌশলী (পথ) মো. সাইফুল ইসলাম কেটে ফেলছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে ঢাকা-সিলেট রেলপথের শায়েস্তাগঞ্জের নসরতপুর রেললাইনের পাশে বেড়ে ওঠা অনেক পুরোনো দুইটি আকাশি গাছ কেটে ফেলা হয়। পরে গাছগুলো স’ মিলে পাঠানো হয়। স্থানীয়রা বলছেন, গাছ দুটি চড়া দামে বিক্রি করে দিয়েছেন উপ-প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম।

নিয়মানুযায়ী, সরকারি কোনো পুরোনো গাছ কাটতে হলে বন বিভাগ থেকে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু এই দুটি গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগের অনুমতি নেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলার সহকারী বন সংরক্ষক মো. মারুফ হোসেন জানান, আমি ট্রেনিংয়ের কাজে বাইরে আছি। খুব সম্ভবত আমরা এ রকম কোনো নির্দেশনা দেইনি। তবে শায়েস্তাগঞ্জের রেঞ্জ অফিসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলতে পারবেন।

jagonews24

শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জ অফিসার আব্দুল খালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাদের পক্ষ থেকে গাছ কাটার জন্য কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রেলওয়ে কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গাছগুলো মরে গিয়েছিল। আমার কাছে ছবি আছে। আমি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মৌখিকভাবে কথা বলেই গাছ কেটেছি। এগুলো রেলের ব্রিজে লাগানো হবে।’

গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের কোনো অনুমতি আছে কি-না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘এই গাছগুলোতো বন বিভাগের নয়। এই গাছ সাধারণ মানুষ লাগিয়েছে, তাই বন বিভাগের অনুমতি নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। গাছ কেটেছি, এলাকার লোকজন দেখেছে, তারাই গাছের ডালপালা নিয়ে গেছে।’

গাছগুলো স’ মিলে বিক্রি করে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করে সাইফুল ইসলাম বলেন, গাছ আমি বিক্রি কেন করব? আর গাছ না কাটলে রেলের কাজে ব্যবহার করব কীভাবে?

উল্লেখ্য, বেশ কয়েকদিন আগে অলিপুরে রেলের পাশে কয়েকশত ফলজ গাছ কেটে সমালোচনায় এসেছিলেন এই রেলওয়ে কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে।

কামরুজ্জামান আল রিয়াদ/এসআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]