পুণ্যস্নানে রাস পূজা সম্পন্ন

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ০৯:৩১ এএম, ৩০ নভেম্বর ২০২০

আকাশে চাঁদের হাসি। হালকা কুয়াশায় ভেজা জোছনার আলো। সারা রাত কেউ ঘুমাননি। পূর্ব আকাশে ভোরের পূর্ণিমা তিথির নতুন সূর্য ওঠার অপেক্ষা। উষালগ্নে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে হাজার হাজার নর-নারী মিলিত হয়েছেন। পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে পুরো সৈকত। আকাশে উড়ছে বাহারী রংঙের বেলুন। তবে চলমান বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের কারণে সীমিত আকারে রাস পূজা উদযাপিত হচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরের লোনা জলে নেমেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজারো নর-নারী। মানতকারীরা মাথা ন্যাড়াসহ প্রায়শ্চিত্ত ও পিণ্ড দান করেন। পূণ্যের আশায় বেলপাতা, ফুল, ধান, দূর্বা, হরীতকী, ডাব, কলা, তেল ও সিঁদুর সমুদ্রের জলে অর্পণ করেন।

পূণ্যার্থীরা পূর্ণিমার মধ্যে উলুধ্বনি ও মন্ত্রপাঠ করে গঙ্গাস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ করেছেন এ বছরের রাস পূজা। আগত পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীরা আজ সোমবার (৩০ নভেম্বর) সকালে থেকে নিজ গন্তব্যে ফিরে গেছেন।

jagonews24

তবে প্রতি বছরের মতো এ বছরের রাসলীলা উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পূন্যার্থী ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেনি এমনটাই জানিয়েছে রাসমেলা উদযাপন কমিটি। রোববার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসনাত মোহাম্মাদ শহিদুল হক। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, জাগতিক পাপ মুছে যাবে এই মনোষকামনায় পূর্ণিমাতিথীতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ কুয়াকাটায় সমুদ্রে পূণ্যস্নান করেন। করোনা ভাইরাসের কারণে এবার কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন না থাকলেও সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের নীল জলে পূণ্যস্নান করেন পূণ্যার্থীরা।

পঞ্জিকা মতে রোববার দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে পূর্ণিমাতিথী শুরু হয়েছে। তা থাকবে আজ সোমবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত। এ তিথিতেই পূণ্যার্থীদের গঙ্গাস্নানের সময় নির্ধারণ করা হয়। পূণ্যের আশায় এবছরও সৈকতে সমাগম হয়েছে দূর দূরান্ত থেকে পূণ্যার্থী, দর্শনার্থী ও সাধু সন্ন্যাসীর। এদের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

jagonews24

এদিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শনিবার রাতে শ্রী শ্রী মদন-মোহন সেবাশ্রমে অধিবাসের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী শুরু হয়েছে শ্রীশ্রী কৃষ্ণের রাস উৎসব। মন্দির প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে ১৭ জোড়া রাধা কৃষ্ণের যুগল প্রতিমা। এ সময় ভাগবত পাঠ, আরতি, উলু ও শঙ্খধ্বনি এবং নাম কীর্তনে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ।

কুয়াকাটায় গঙ্গা স্নান শেষে পূর্ণ্যার্থীরা রাধা কৃষ্ণের যুগল প্রতিমা দর্শন করবেন। তবে এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ রাস উৎসব উদযাপন করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটা পৌরসভার উদ্যোগে মন্দির ও সৈকত এলাকায় ভাসমান টয়লেট, পরিধেয় বস্ত্র পরিবর্তন সেড, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

jagonews24

নিরাপত্তায় রয়েছেন দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‌্যাব, মেডিকেল টিমসহ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। এছাড়া পুরো কুয়াকাটা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব হলেও এতে অংশ নেয় সর্বস্তরের মানুষ। কুয়াকাটার সৈকত পরিনত হয় সার্বজনীন উৎসবে।

কলাপাড়া মদন-মোহন সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাথুরম ভৌমিক জানান, শনিবার রাতে শ্রী শ্রী কৃষ্ণের রাস উৎসবের অধিবাস সম্পন্ন হয়েছে। এ উৎসব চলবে পাঁচদিন ব্যাপী। করোনা ভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ বছর পালন করা হয়।

কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু অনন্ত কুমার মুখার্জী জানান, ব্যাপক নিরাপত্তা, উৎসাহ উদ্দিপনা, ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্য, রাতভর শ্রী কৃষ্ণের নাম যজ্ঞ ও উলুধ্বনীর মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় অনুষ্ঠান গঙ্গাস্নান ও শ্রী কৃষ্ণের রাস পূজা সীমিত আকারে সম্পন্ন হয়েছে।

jagonews24

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সোহরাফ হোসেন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সীমিত পরিসরে রাস উৎসবের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মতো কুয়াকাটার ট্যুরিস্ট পুলিশও সারা রাত পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় কাজ করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, কুয়াকাটায় পূণ্যস্নানে আগত পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।

কাজী সাঈদ/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]