কারাগারে নয়, বাড়িতে কেমন কাটছে সাজাপ্রাপ্ত আসামির দিন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১২:০৩ পিএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২০

মাদক মামলার এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসান আলী সরদারের সময় কাটছে বাড়িতে। মা-বাবার সেবা, গাছ লাগানো ও মাদকবিরোধী প্রচfরণা চালিয়ে সময় কাটছে এই মাদক ব্যবসায়ীর।

সংশোধনের সুযোগ দিয়ে মাদক মামলায় ব্যতিক্রমী রায় দিয়েছেন সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক ইয়াসমিন নাহার।

যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদের উদ্দেশ্যে এই সাজাপ্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ী বলছেন, ‘মাদক ভালো জিনিস নয়, সমাজকে ক্ষতি করে। আপনারা ভালো হয়ে যান।’

হাসান আলী সরদার (৩৮) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালি ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের রজব আলী সরদারের ছেলে। সাত বছর আগে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন হাসান আলী। ২০১৫ সালে তিন কেজি গাঁজাসহ সাতক্ষীরা সদরের খানপুর বাজার এলাকা থেকে র্যাবের হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন ছিলেন কারাগারে। র্যাবের পক্ষ থেকে দেয়া হয় একটি মাদক মামলা।

গত ১০ নভেম্বর সাক্ষ্য শেষে সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক ইয়াসমিন নাহার মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে এক বছর সাজা প্রদান করে পাঁচটি শর্তে আসামিকে প্রবেশনে বাড়িতে থাকার সুযোগ দেয়া হয়।

শর্তগুলো হলো- কোনো প্রকার মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করবেন না। কোনো খারাপ সঙ্গীর সঙ্গে মিশবেন না। প্রবেশনকালীন সময়ে ১০টি বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। পিতা-মাতার সেবা করতে হবে। সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন মাদকের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে হবে। শর্ত ভঙ্গ করলে আসামিকে আবারও যেতে হবে কারাগারে। শর্ত সঠিকভাবে পালন করলে এক বছরের সাজা বাতিল হয়ে যাবে।

Hasan-Ali

বাড়িতে হাসান আলী সরদার কী করছেন জানতে যাওয়া হয় ওই বাড়িতে। দেখা যায়, কুল বাগানে কাজ করছেন হাসান আলী। লাগিয়েছেন ১০টি মেহগনি গাছ।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসান আলী জানান, আদালত যে শর্ত দিয়ে আমাকে বাড়িতে থাকার সুযোগ দিয়েছেন সেই সকল শর্ত আমি মেনে চলছি। গাছ লাগিয়েছি, কুলের বাগান করে ব্যবসা শুরু করেছি। মাদকবিরোধী প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছি। মা-বাবার সেবা করছি।

যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদের উদ্দেশ্যে বলব, আমাকে দেখে শিখুন। মাদক ভালো জিনিস নয়, সমাজকে ক্ষতি করে। আপনারা ভালো হয়ে যান।

হাসান আলীর বাবা রজব আলী সরদার বলেন, হাসান এখন অনেক বদলে গেছে। মাঠে-ঘাটে কাজ করে। আমাদের খোঁজখবর নেয়, সেবাযত্ন করে। এতে আমরা খুশি।

মা আকলিমা খাতুন জানান, বাড়িতে গাছ লাগিয়েছে, ঘের করছে, কুলবাগান করেছে। আমাদের সেবাযত্ন সব সময় করে। বউ-বাচ্চারও সেবা করে। আগের থেকে অনেক পরিবর্তন হয়েছে তার।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদ হুসাইন জানান, আদালতের শর্ত মেনে গাছ লাগানো ও মাদকবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে সে। সামাজিক মানুষদের সঙ্গে চলাফেরা করছে। হাসানের মতো যদি সকলেই মাদককে না বলে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড শুরু করে তাহলেই সমাজ থেকে মাদক নির্মূল হবে।

Hasan-Ali-1

মাদক মামলাটি পরিচালনাকারী আসামি পক্ষের আইনজীবী এটিএম ফখরুল আলম জানান, তিন কেজি গাঁজাসহ আটকের পর র্যাব সাতক্ষীরা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মাদক মামলা দায়ের করে। মামলার জিআর নং ৪৩/১৫ (টিআর ২৯/১৬)।

গত ১০ নভেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণা করেন আদালত। আদালত আসামিকে এক বছরের সাজা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশনে পাঠিয়েছেন সংশোধনের জন্য। সেখানে পাঁচটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। শর্ত ভঙ্গ করলে আসামিকে আবারও কারাগারে যেতে হবে। শর্ত মানলে, সাজা বাতিল হবে।

তাছাড়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তাকে তিন মাস পর পর একটি রিপোর্ট দাখিল করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা সুমনা শারমিন জানান, এখন ছেলেটি অনেক ভালো কাজ করছে। আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। সেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে নিয়মিত।

মাছের ঘের করাসহ যে সকল শর্তে তাকে প্রবেশনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে সে সকল শর্ত মেনে কাজ করছে। গাছ লাগিয়েছে, মাদকবিরোধী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। আগামী ৬ ডিসেম্বর একটি মাদকবিরোধী প্রচারণায় আমাদেরও অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

আকরামুল ইসলাম/এফএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]