মানিকগঞ্জে আওয়ামী লীগে স্বস্তি বিএনপিতে অসন্তোষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:৫৭ পিএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২০

মানিকগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী। তবে দুইজন বিদ্রোহী রয়েছেন বিএনপিতে। একক প্রার্থী থাকায় ক্ষমতাসীন দলে স্বস্তি থাকলেও অসন্তোষ রয়েছে বিএনপিতে। যদিও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা আশা করছেন, দলীয় প্রার্থীর বাইরে যারা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন।

পৌর নির্বাচনের প্রথম ধাপে ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণার অনেক আগে থেকেই মাঠে তৎপর ছিলেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. রমজান আলী। বিগত পৌর নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হয়েও তিনি পরাজিত হয়েছিলেন বিদ্রোহী প্রার্থী গাজী কামরুল হুদা সেলিমের কাছে।

অপরদিকে বিএনপির মনোয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান আতা। মঙ্গলবার তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোয়ন দাখিল করেন। তার সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাসির উদ্দিন যাদু এবং সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা কলেজের সাবেক ভিপি ফারজানা জুবাইদি সিমকী। তারাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মঙ্গলবার মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির ঘাঁটি। ভোটাররা কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ পেলে দলীয় প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। কিন্তু বিদ্রোহী থাকলে, নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হবে। ফলে পাল্টে যাবে ভোটের হিসাবও। সে ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল না আসার সম্ভাবনাই বেশি।

তবে দলীয় প্রার্থীর বাইরে বিএনপির আরও দুই প্রার্থীকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে। যদি কোনো কারণে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয় সে ক্ষেত্রে অপর দুইজনের একজনকে বেছে নেয়া হতে পারে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার সবারই আছে। তবে দলীয় সভায় সম্ভাব্য সব প্রার্থীরা বলেছিলেন দল যাকে মনোনয়ন দিবেন তার পক্ষেই থাকবেন সবাই। এরপরও দুইজন প্রার্থী হয়েছেন। ৩ ডিসেম্বর মনোনয়ন যাচাই বাছাই শেষ হওয়ার পরই তাদের সঙ্গে বসা হবে।

তিনি আশা করেন, বিদ্রোহীরা নির্ধারিত সময়ে মধ্যে নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যহার করবেন।

পৌর নাগরিকদের অনেকেই মনে করেন, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগে একক প্রার্থী থাকলে এবার মানিকগঞ্জে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে রয়েছে সংশয়।

মানিকগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার শেখ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে চার, কাউন্সিলর পদে ৫০ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৫ প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ৩ ডিসেম্বর মনোনয়ন যাচাই বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। ১০ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ধরনের প্রস্ততি নেয়া হচ্ছে।

বি.এম খোরশেদ/এএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]