নিজেকে ‘ভূমিহীন’ দাবি করে জমি দখলের অভিযোগ সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৭:১৭ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০
ফাইল ছবি

তথ্য গোপন করে বন্দোবস্তের নামে সাধারণ মানুষের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ফেনী পৌরসভার সার্ভেয়ার মো. আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। হয়রানি থেকে বাঁচতে ও নিজেদের সম্পত্তি রক্ষার্থে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফেনী পৌরসভার সার্ভেয়ার হিসেবে কাজ করছেন সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের কাটা মোবারকঘোনা গ্রামের আবুল কাশেম মাস্টার। কাজের সুবাদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ভূমি অফিসে তথ্য গোপন করে প্রতিবেশীদের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বন্দোবস্ত নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই বন্দোবস্ত আদেশ বাতিল করে বসতভিটা ও ফসলি জমি থেকে উচ্ছেদ ঠেকাতে ভুক্তভোগী ইলিয়াছ সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে আবেদন করেছেন।

অভিযোগকারী জানান, বংশানুক্রমে পূর্বপুরুষদের মালিকানাধীন বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ভোগদখল করে আসছেন তারা। কিন্তু বিএস খতিয়ানে অসতর্কতাবশত তাদের নাম না থাকায় সম্পত্তিগুলো খাস জমিতে রেকর্ড হয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে আবুল কাশেমের বাবা নুর ইসলাম সম্পত্তিগুলোতে চরাঞ্চল ও বেদখলী উল্লেখ করে একক মালিকানা দাবি করে ১৯৯২ সালে আদালতে মামলা করেন। পরে আদালত ভূমিগুলো ১২ জন প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেন। মামলায় হেরে নুর ইসলাম ২০০২ সালে আপিল করলেও ২০০৭ সালে তা খারিজ হয়ে যায়।

ফেনী সদর উপজেলা ভূমি অফিসের একটি সূত্র জানায়, সার্ভেয়ার আবুল কাশেম নিজেকে ভূমিহীন দাবি করে ২০১০ সালে ফরহাদনগর ইউনিয়নের মোবারকঘোণা এলাকার ১৩২ নম্বর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ৩১১২, ৩১১৩, ৩১১৫, ৩১২৬, ৩১০৮ ও ৩১১৭ দাগে ১০০ শতক সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তের আবেদন জানান।

অভিযোগ রয়েছে, এর আগে অর্থের বিনিময়ে ফাজিলপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার কাছ থেকে নিজেকে ভূমিহীন দাবি করে জমি বন্দোবস্তের জন্য সুপারিশ করে সরেজমিন প্রতিবেদন করান।

প্রতিবেদনে আবুল কাশেমকে ভূমিহীন দাবি করা হলেও বিভিন্ন খতিয়ানে তার নামে জমির বন্দোবস্ত রয়েছে বলে জানা যায়।

তবুও ওই ভুয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ‘ভূমিহীন’ হিসেবে তাকে ১ একর জমি বন্দোবস্ত দেয় ভূমি অফিস।

সরেজমিনে ফরহাদনগর ইউনিয়নের মোবারকঘোনা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আবুল কাশেমের নামে বন্দোবস্তকৃত ওই ১ একর জমির ১২ শতকে বাবুল মিস্ত্রী নামে এক ব্যক্তির বসতবাড়ি রয়েছে। এছাড়াও, ২৬ শতকে স্থানীয় ইলিয়াছ, ৮ শতকে বসির আহম্মেদ ও ৫০ শতকে মর্তুজা ভূঞাদের ফসলি জমি রয়েছে।

শতবছর ধরে বংশ পরম্পরায় তারা এসব সম্পত্তি ভোগ দখল করে আসছেন।

ভূমি অফিস থেকে বন্দোবস্ত নেয়া এসব জমি জমি দখলে নিতে ওই এলাকায় গেলে আবুল কাশেমকে তাড়া করেন স্থানীয়রা।

ইলিয়াছ নামে এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, ‘আবুল কাশেম ভূমিহীন নন। তিন একরের বেশি সম্পত্তি থাকার পরেও ভূমি কর্মকর্তারা টাকার বিনিময়ে আমাদের সম্পত্তি কাশেমকে বন্দোবস্ত দিয়েছেন। কয়েকমাস আগে স্থানীয় ওমর ফারুক নিজ জমিতে দোকানঘর নির্মাণের সময় কাশেম বাধা দিয়ে ওই জমির মালিকানা দাবি করেন।’

এ বিষয়ে স্থানীয় ফরহাদনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন টিপু বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে কেউ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ না করায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।’

২০১০ সালে আবুল কাশেম ‘ভূমিহীন’ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সনদ দেয়া হয়েছে কি না, বিষয়টি তার জানা নেই বলে উল্লেখ করেন চেয়ারম্যান।

ফেনী পৌরসভা মেয়র হাজী আলাউদ্দিন বলেন, ‘যেহেতু ভুক্তভোগীরা পৌরসভার সার্ভেয়ার আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন সেহেতু তদন্ত করে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যায় করে কেউ পার পাবে না। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের করণীয় থাকলে আমরা সেটা অবশ্যই করব।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেমের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি তার কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। নিজেকে জমির প্রকৃত মালিক দাবি করে তিনি ফেনী পৌরসভা মেয়রের কাছে প্রতিকার চাইবেন বলেও জানান তিনি।

ফেনী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফখরুল ইসলাম জানান, অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাশেদুল হাসান/এসএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]