এই বুঝি ধসে পড়ল সেতুটি

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ০৭:২৩ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের ফাঁসিপাড়া ও খাজুরা গ্রামের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ২০০৩ সালে নির্মাণ করা হয় খাজুরা আয়রণ ব্রিজ। এ সেতুটিই আশপাশের ৭ গ্রামের অন্তত ৮ হাজার মানুষের বন্দরে য়াতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। তবে দীর্ঘদিন ধরে খালের ক্ষয়িষ্ণু নোনা পানির কারণে নড়বড়ে অবোকাঠামো নিয়ে সেতুটি এখন একেবারে অরক্ষিত। মানুষ চলাচলের অনুপযোগী। যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সেতুর চিত্র দেখেও মনে হচ্ছে, এখনই বুঝি ধসে পড়বে সেতুটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইতোমধ্যেই জরাজীর্ণ সেতুতে রূপান্তরিত হয়েছে এটি। মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে লোহার তৈরি মূল সেতুর কাঠামো। অনেকটা নিরুপায় হয়েই সেতুটি দিয়ে পারাপার হচ্ছেন মানুষজন। প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় অনেক দুর্ঘটনা। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করতে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে মেরামত করেছেন বেশ কয়েকবার।

তবে এখন আর তাও সম্ভব হচ্ছে না। তাই আশ্রয়বাসীরা চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন। ফলে যানচলাচল বন্ধ থাকায় পায়ে হেঁটেই বন্দরে আসতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দফায় দফায় সংশ্লিষ্ট দফতরে ধর্না দিলেও সেতুটি পুনর্নির্মাণে এগিয়ে আসেনি কেউ। ফলে আজও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে খাজুরা, পশ্চিম কুয়াকাটা, মেলাপাড়া, মংথয়পাড়া, নাইউরীপাড়া, ফাঁসিপাড়া, বাহামকান্দ ও ফাঁসিপাড়া আশ্রয়ণকেন্দ্রের দরিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী অসহায় মানুষগুলোর।

আয়রণ সেতুটি পার হয়ে কয়েকশ শিক্ষার্থীকে যেতে হয় বিদ্যালয়। করোনার প্রভাব কমলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারবে কি না- এ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন অভিভাবকরা।

jagonews24

ফাঁসিপাড়া আশ্রয়ণকেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুধীর চন্দ্র বলেন, গত ৪ বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, আমি গত সপ্তাহে সেতুটি পার হওয়ার সময় পাটা ভেঙে পড়ে হাঁটুতে ব্যাথা পেয়েছি।

আবদুর রাজ্জাক নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, আমরা আশ্রয়ণবাসী বারবার বিভিন্ন দফতরে ধর্না দিয়েও কোনো ফল পাইনি। তবে মাসখানেক আগে মাপ নেয়া হয়েছিল। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে এর ঠিক নেই।

এ বিষয়ে লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, ওখানকার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। সেতুটি নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে মাটি পরীক্ষা-নীরিক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, অচিরেই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে। বর্তমানে ওখানে বসবাসকারীরা বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন।

কাজী সাঈদ/এফআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]