পদ্মা সেতুর ৬ কিলোমিটার দৃশ্যমান হবে শুক্রবার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:০৮ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০

মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ১১ ও ১২ নম্বর পিলারের ওপর ৪০তম স্প্যান বসানো হচ্ছে শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর)। ইতোমধ্যে ভাসমান ক্রেনের মাধ্যমে ‘২-ই’ নামে স্প্যানটি নির্দিষ্ট পিলারের কাছে নোঙর করে রাখা হয়েছে। এই স্প্যানটি বসলেই পদ্মা সেতুর ছয় কিলোমিটার দৃশ্যমান হবে।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, শুক্রবার শুধু দুই পিলারের ওপর তোলার কাজটি বাকি রয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হবে। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ স্প্যানটি দুই পিলারের ওপর বসানো হয়ে যাবে। এই স্প্যানটি স্থায়ীভাবে বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমাণ হবে পদ্মা সেতুর ছয় কিলোমিটার। এরপর বাকি থাকবে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ‘২-এফ’ নামের স্প্যানটি, যা ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হবে।

তিনি আরও জানান, ৩৯তম স্প্যান বসানোর সাতদিনের মাথায় ৪০তম স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিজয়ের মাসে সেতুতে স্প্যান বসানোর কাজ সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন হবে। পদ্মাপাড়ের মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ৪০তম স্প্যানটি নিয়ে যাত্রা করে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ভাসমান ক্রেন ‘তিয়ান ই’। আধাঘণ্টা পর নির্ধারিত পিলারের কাছে পৌঁছায় ক্রেনটি। এরপর শুরু হয় ভাসমান ক্রেনটির নোঙর করার কাজ। দুপুরের দিকে শেষ হয় ছয়টি ক্যাবলের (তার) মাধ্যমে নোঙর করার কাজ। সকাল থেকে অনুকূল আবহাওয়া থাকায় কাজ এগিয়ে রাখার জন্য স্প্যানটিকে পিলারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কাজটিও করে রাখা হয়েছে। কোনো রকম আশঙ্কা ছাড়াই যাতে স্প্যানটি বসিয়ে দেয়া যায় এ জন্য কাজটি সেরে রাখা হয়েছে। স্প্যানটি বহন করে নিয়ে যাওয়া, নোঙর করা ও পজিশনিং সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে বসানো স্প্যানগুলোতে রেলওয়ে স্ল্যাব ও রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজও দ্রুতগতিতে চলছে। সেতুতে দুই হাজার ৯১৭টি রোডস্ল্যাব প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৯টিরও বেশি স্ল্যাব বসানো হয়েছে। রেলওয়ের জন্য প্রয়োজন হবে দুই হাজার ৯৫৯টি রেলস্ল্যাব। এ পর্যন্ত এক হাজার ৮৬০টিরও বেশি স্ল্যাব বসানো হয়েছে।

২০১৪ সালে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বসানো হয়েছিল প্রথম স্প্যান। এরপর ধাপে ধাপে স্প্যান বসিয়ে এ পর্যন্ত ৩৯টি স্প্যান বসানো হয়েছে। সেতুর মোট পিলার ৪২টি এবং এতে স্প্যান বসবে ৪১টি। শুক্রবার স্প্যানটি বসলে বাকি থাকবে মাত্র একটি স্প্যান বসানোর কাজ।

ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে সেতুর কাঠামো। সেতুর উপরের অংশে যানবাহন ও নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

ভবতোষ চৌধুরী নুপুর/আরএআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]