১০ বছর প্রতীক্ষার পর ভোট দেবেন মোংলা পৌরবাসী

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত: ১১:০৯ এএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০

মোংলা পোর্ট পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১১ সালে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ২০১৫ সালে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ হলেও সেসময় সীমানা জটিলতা মামলায় স্থগিত হয়ে যায় নির্বাচন। সেই সীমানা জটিলতা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন নিয়ে অধীর আগ্রহে সময় কাটছিল পৌরবাসীর। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো বৃহস্পতিবার।

দ্বিতীয় দফা পৌরসভা নির্বাচনের তফসিলে মোংলা পৌরসভার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে মোংলা পৌরসভা নির্বাচন। ভোট হবে ইভিএময়ে।

এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে পৌর মেয়র প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় অনেকেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য এ সকল প্রার্থীরা যে যার মতো লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে মাঠ পযার্য়ের নেতা-কর্মীদেরসহ হাইকমান্ডের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন তারা। এলাকায় চালাচ্ছেন প্রচারণাও। তবে এ প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেই বেশি দেখা যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত মাঠে আওয়ামী লীগেরই ৪ জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী ইজারাদার, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাগেরহাট জেলা পরিষদের সদস্য ও মোংলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার শেখ আব্দুর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শেখ কামরুজ্জামান জসিম এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন।

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় দলীয় মনোনয়নের জন্য চার জনের নাম প্রস্তাব করা হয়। প্রত্যেকেই নিজ ইচ্ছায় তাদের নাম প্রস্তাব করেন। কিন্তু প্রত্যেকেই বলেন দল থেকে ৪ জনের যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক না কেন তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীর হয়ে কাজ করবেন।

অপরদিকে বিএনপি থেকে মাত্র একজন প্রার্থীরই নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি হলেন বর্তমান পৌর মেয়র আলহাজ্ব মো. জুলফিকার আলী। মো. জুলফিকার আলী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তার দল থেকে আর কোনো সম্ভাব্য প্রার্থী না থাকায় তিনিই পৌর মেয়র প্রার্থী হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন।
মেয়র মো. জুলফিকার আলী বলেন, আমি এর আগেও বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে নিবার্চন করে মেয়র হই। এবারও দল থেকে আমাকেই মনোনয়ন দেবে। আমি যখন মেয়রের দায়িত্ব নিই তখন পৌরসভা দেনায় জর্জরিত ছিল। রাস্তাঘাট খারাপ ছিল। সকল ধরনের নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল পৌরবাসী। আমি আশার পর পৌরসভার সর্বত্র যে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে তাতে পৌরবাসী খুশী মনে আমাকেই আবার ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করবেন।

এর আগে ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী ইজারদার। তবে সে সময় সীমানা জটিলতার কারণে নিবার্চন স্থগিত হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় তিনি দলের কাছে আবারও মনোনয়ন চেয়েছেন।

ইদ্রিস আলী ইজারদার বলেন, আসছে নিবার্চনে আবারও তাকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে। ২০১৬ সালে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে পৌরসভার সীমানা জটিলতা সংক্রান্ত মামলাসহ অন্যান্য বিষয়েও মোংলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ করে নিবার্চনের পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আ. রহমান বলেন, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস আছে। তারা তাদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে যে সকল সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে পাঠিয়েছেন এবং মনোনয়ন বোর্ড যাকে চূড়ান্ত প্রার্থী করবে আমি দলের স্বার্থে তার হয়েই কাজ করব। আমি না পেলেও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেব।

মনোনয়ন প্রত্যাশী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শেখ কামরুজামান জসিম বলেন, পৌর মেয়র প্রার্থী হিসেবে আমি দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছি। তৃণমূলের নেতা কর্মীদের প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। আমার প্রিয় নেতা ও অভিভাবক খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এবং স্থানীয় সাংসদ উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটি মেনে নিয়েই আমি কাজ করব।

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন বলেন, দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছি। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকাদার আব্দুল খালেক এবং মোংলা-রামপালের সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটি মেনে নেব।

এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে মোংলা বন্দরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক ও মোংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব এইচ এম দুলালের। তবে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এরশাদ হোসেন রনি/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]