কেমন জনপ্রতিনিধি চায় কুয়াকাটার তরুণ প্রজন্ম?

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ০৮:৫২ এএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০

সাগরকন্যা কুয়াকাটা পৌরসভা নির্বাচনে আগামী ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের কুয়াকাটা পৌরবাসীর সেবার জন্য মেয়র পদে চারজন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে আটজন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষ দিন। কিন্তু কুয়াকাটার নতুন ভোটার ও তরুণ প্রজন্ম চায় পর্যটনবান্ধব দক্ষ জনপ্রতিনিধি। প্রার্থীদের ইশতেহারে থাকা চাই তারুণ্যের চাহিদা।

এম সাইফুল্লাহ সাইফ। বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কুয়াকাটা তরুণ ক্লাব’র তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক। কুয়াকাটা পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে তার ফেসবুক প্রোফাইলে ‘ইশতেহারে থাকুক তারুণ্যের চাহিদা...’ শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। জাগো নিউজের দর্শকদের জন্য স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-

Kuakata

তিনি লিখেছেন, ‘১৫ ডিসেম্বর ২০১০-এ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিতেই কুয়াকাটা পৌরসভা গঠিত হয়েছিল। প্রায় ৫ বছর সিলেকশনের প্রতিনিধিত্ব থাকার পর ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ৮.১১ বর্গকিলোমিটারের এই ছোট্ট পৌরসভায় বর্তমানে জনসংখ্যা মাত্র ১৫,৩২৬ জন। কিন্তু সব থেকে বড় বিষয়, এই ছোট পৌরসভাটি বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের অপার সম্ভাবনা নিয়েই গড়ে ওঠা। দেশের গণ্ডি পেড়িয়ে বহির্বিশ্বেও এই পর্যটন নগরীর নামডাক ছড়িয়েছে বেশ। একটা পৌরসভা ১০ বছরে আর কতটুকুই বা উন্নয়ন হবে! কিন্তু এটা যে কুয়াকাটা পৌরসভা! অন্যসবখানের থেকে এখানে একটু বেশিকিছুই চাই। সুতরাং পুরো পৌরসভা ঘুরলে কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন চোখে পড়ে না। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছাতেই এই অঞ্চলে বেশ কটি বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আগামী ২৮ ডিসেম্বর কুয়াকাটা পৌরসভায় দ্বিতীয় নির্বাচন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী ও একজন স্বতন্ত্রসহ মোট চারজনে মেয়র পদে লড়ছেন। এরমধ্য থেকে একজন হবেন পৌরপিতা। তরুণ প্রজন্ম একটি পরিচ্ছন্ন, মাদকমুক্ত, দূষণমুক্ত, স্মার্ট কুয়াকাটা দেখতে চায়। যেটা হতে পারে দেশের জন্য একটি মডেল পর্যটন সিটি। এই ‘মডেল পর্যটন সিটি’ টার্মে অনেক গবেষণা প্রয়োজন। কিন্তু যেসব জিনিস আরও ৫-৭ বছর আগে থেকেই প্রয়োজনীয় হয়ে আছে, সেগুলোর বাস্তবায়নই হয়নি। যেমন, একটা বাসস্টপ, একটা অডিটোরিয়াম, একটা ওয়াচ টাওয়ার, একটা স্টিডিয়াম, বিভিন্ন জায়গায় পাবলিক টয়লেট, অনেকগুলো সড়ক সংস্কার, রোড লাইট, পানি নিষ্কাশন ড্রেন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, পৌর পার্ক, পৌর মার্কেট। কুয়াকাটা পৌরসভায় এমন অসংখ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। সাথে সাথে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি। প্রয়োজন আছে পর্যটকদের জন্য কুয়াকাটাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণের।’

Kuakata

‘নতুন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কি কুয়াকাটাকে নিয়ে নতুন করে ভাববে? একটা স্মার্ট পৌরসভা গড়তে জনপ্রতিনিধি আর জনসাধারণ উভয়ের প্রচেষ্টার ফসল হতে পারে আমাদের গর্বের নগর। দেশ বিদেশের পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা হতে পারে একটি মডেল। কুয়াকাটার তরুণদের মধ্যে জন্মভূমিকে ভালবাসার প্রবণতাটা একটু বেশিই লক্ষণীয়। আমার বিশ্বাস, আমাদের আগামী দিনের জনপ্রতিনিধিগণ আমাদের এই চিন্তাভাবনাকে মূল্যায়ন করবেন।’

এম সাইফুল্লাহ সাইফের মতো কুয়াকাটার হাজারো তরুণের চাওয়া একই। হয়তো সাইফের মতো সুন্দর করে সবাই মতামত উপস্থাপন করতে পারেন না। কিন্তু সবার মনের কথা একই।

কুয়াকাটা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান মেয়র ও কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লা, বিএনপি মনোনীত পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ মুসুল্লী, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগে যোগদান করা বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলার মহিপুর থানা শাখার সভাপতি আনোয়ার হোসেন হাওলাদার এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের পাখা প্রতীকের প্রার্থী হাজী নুরুল ইসলাম হাওলাদার। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে আটজন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৩ জন নির্বাচনের মাঠে লড়ছেন।

Kuakata

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেছেন, ‘জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে কুয়াকাটা পর্যটনের উন্নয়নের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করব।’

বর্তমান মেয়র ও কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লা বলেন, ‘আমি মেয়র হিসেবে কুয়াকাটা পৌরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছি। এবার নির্বাচিত হয়ে মডেল পৌরসভা গড়তে কাজ করব।’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১০ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

কাজী সাঈদ/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]