সেবার বদলে ভোগান্তিই বেশি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ১০:৫৭ এএম, ২২ ডিসেম্বর ২০২০

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ঠিকমতো সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন রোগীরা স্বজনরা। তারা জানান, সেবার বদলে হাসপাতালে ভোগান্তিই বেশি হচ্ছে তাদের।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলায় ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। আবার আক্রান্তদের বেশিরভাগই বিভিন্ন বয়সের শিশু।

jagonews24

৬ থেকে ১৩ ডিসেম্বর সাতদিনে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৫৪ জন এবং নিমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ১০৪ জন শিশু ভর্তি হয়। ইতোমধ্যে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে মারা গেছে পাঁচজন শিশু।

সম্প্রতি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। ওয়ার্ডের বেডে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় মেঝেতেও রোগীর চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। তবে শিশুদের ভর্তি করানো স্বজনরা হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন।

jagonews24

জেলার মাইজবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আলীনুর বলেন, আজ কয়েক দিন ধরে ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি, কিন্তু এই সরকারি হাসপাতালে আমাদের যে রকম সেবা পাওয়ার কথা আমরা তা পাচ্ছি না। আমার ছেলের হাতে স্যালাইন লাগানো অবস্থায় হাত ফুলে যাচ্ছিল, হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্সকে বললে সে আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। সেবার বদলে এখানে ভোগান্তিটাই বেশি হচ্ছে।

জগাইরগাঁও গ্রামের লিটন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, সরকারি হাসপাতালে মেয়েকে নিয়ে ভর্তি হলাম আজ সাত দিন হলো। কিন্তু তারা শুধু স্যালাইন দেয় আর বাকি ওষুধের জন্য কাগজ লিখে দেয় বাইরে থেকে আনার জন্য। তখন যদি বলি হাসপাতালে কি এসব ওষুধ নেই, তাহলেই তারা খারাপ ব্যবহার করে।

জয়কলস থেকে আসা সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আজ তিনদিন ধরে আমার মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। হাসপাতাল থেকে শুধু একটা স্যালাইন দেয়া হয়েছে, বাকি সব ওষুধ আমি বাইর থেকে কিনে নিয়ে এসেছি।

jagonews24

উত্তর আরপিন নগরের বাসিন্দা আসমা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, মনে করেছিলাম হাসপাতালে মেয়েকে নিয়ে ভর্তি হলে টাকা কম লাগবে কিন্তু ভর্তি হওয়ার পর থেকে শুধু ওষুধই কিনে যাচ্ছি, আমার মেয়েটা এখনো সুস্থ হয়নি। ডাক্তারও মাত্র একবার সকালে এসে দেখে যান, আর আসেন না।

বাদেরটেক গ্রামের মুসা তালুকদার প্রশ্ন করেন, সুনামগঞ্জ জেলার এতবড় হাসপাতালে শিশুদের দেয়ার মতো কোনো ওষুধ নেই, তাহলে সরকার থেকে যে ওষুধ দেয়া হয় সেগুলো কোথায় যায়?

jagonews24

এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন শামস উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যে পাঁচজন শিশু মারা গেছে, তার জন্য ডাক্তারদের অবহেলা বা ওষুধের সংকটের কোনো কারণ নেই। হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ রয়েছে, তবে ইডিসিএল’র কিছু ওষুধের ঘাটতি রয়েছে।

রোগীদের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো নার্সের বিরুদ্ধে রোগীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগ আমি পাইনি। পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

লিপসন আহমেদ/এমআরআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।