নবজাতকের আকিকার প্রস্তুতি পরিণত হলো শোকে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৫:৩২ পিএম, ০৩ জানুয়ারি ২০২১

সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেয়া সদ্য নবজাতকে সিএনজিতে নিয়ে বাড়ি ফিরছেলন একই পরিবারের ছয়জন। সিদ্ধান্ত ছিল বাড়ি ফিরে উৎসব করে দেয়া হবে শিশুর আকিকা। কিন্তু সে আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। আনন্দের পরিবর্তে সেই বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম।

নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক নয়ন দাশ জানান, নেত্রকোনা থেকে শাহজালাল পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে সিএনজিটিকে চাপা দিলে সিএনজির সব যাত্রীর মারা যায়। রোববার (৩ জানুয়ারি) ময়মনসিংহের তারাকান্দায় এলাকার গাছতলায় দুপুর পৌনে ১টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন এবং অপরজন সিএনজি চালক। নিহতদের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের চেচুয়ালেন্দি গ্রামে।

নিহতরা হলেন মাওলানা ফারুক হোসেন (২৫), তার স্ত্রী মাসুমা বেগম (২০), তার পাঁচদিন বয়সী কন্যা শিশু, ভাই নিজামউদ্দীন, ভাবি জোসনা বেগম (২৫) ও বোন জুলেখা খাতুন (৩৫)। তবে সিএনজি চালকের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি। মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় শাহজালাল পরিবহন নামে একটি বাস আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ।

খবর পেয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। পরে শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানার অধীনে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হচ্ছে।

নিহত মাওলানা ফারুকের চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, মাওলানা ফারুক-মাসুমা দম্পতির সন্তান প্রসবের জন্য তারা গত সপ্তাহে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পাঁচদিন পূর্বে তাদের সন্তানের জন্ম হয়। এরপর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে এই সড়ক দুর্ঘটনায় তারা প্রাণ হারান।

নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা প্রশাসন থেকে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। আমি যোগাযোগ করেছি তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এইচ এম কামাল/এএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]