লাশের সারি দেখে স্তব্ধ এলাকাবাসী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৯:১৩ পিএম, ০৩ জানুয়ারি ২০২১

সবাই হতবাক! একই পরিবারের ছয় জনের লাশের সারি। এর আগে একসঙ্গে এতগুলো লাশ দেখেনি এলাকাবাসী। ক্ষত-বিক্ষত এই লাশের মিছিল স্তব্ধ করেছে সবাইকে। ঘটনাস্থল নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের পেচুয়ালেঞ্জী গ্রাম।

এ ঘটনায় এলাকায় এখন শোকের মাতম চলছে। নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না প্রতিবেশীরাও। স্তব্ধ সবাই।

ময়মনসিংহের তারকান্দা উপজেলার গাছতলা এলাকায় বাস সিএনজির সংঘর্ষে একই পরিবারের ছয়জনসহ মোট সাতজনের মৃত্যু হয়। রোববার (৩ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। উপরের দৃশ্যটি লাশগুলো এলাকায় পৌঁছানোর পরের।

এই নিহতদের একজন পেচুয়ালেঞ্জী গ্রামের ফারুক হোসেন (২৫)। ছেলেসহ পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর খবরে ফারুকের মা আয়েশা খাতুন এখন পাগলপ্রায়।

বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, ‘কথা ছিল বাড়িতে নতুন অতিথি এলে আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে করা হবে আকিকার অনুষ্ঠান। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে গেছে। এখন কাকে নিয়ে বাঁচব। আমার আর কেউ রইলো না।’

এই দুর্ঘটনায় রাশেদার ছেলে, মেয়ে, নাতি, ছেলের বৌসহ ছয়জন মারা গেছেন। তার আহাজারিতে ভার হয়ে আসছিল এলাকার আকাশ বাতাস।

নিহত বাকিরা হলেন- ফারুকের স্ত্রী মাসুমা আক্তার (২০), তাদের পাঁচদিনের নবজাতক ছেলে, ফারুকের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন (২৭), বড় বোন তামান্না আক্তার জুলেখা (৩২), আরেক বড় ভাই আজিম উদ্দিনের স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম (২৫) ও ময়মনসিংহ সদরের চরলক্ষীপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে সিএনজির চালক রাকিবুল (৩০)।

নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মাসুমা আক্তারের প্রসব ব্যথা শুরু হলে প্রথমে তাকে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে নেয়া হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে তিনি স্বাভাবিকভাবে ফুটফুটে এক ছেলে শিশুর জন্ম দেন।

রোববার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে সবাই বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের তারকান্দা উপজেলার গাছতলা এলাকায় শাহজালাল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সেই সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নিহত হন সাতজন। পরে শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি নিহতদের লাশ উদ্ধার করে।

পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম রুবেল বলেন, ঘটনাটি হৃদয় বিদারক। স্বজনদের মাধ্যমে লাশ গ্রহণ করা হয়েছে। দাফনের ব্যবস্থা চলছে।

শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নয়ন চন্দ্র দাস জানান, নিহতদের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমান বলেন, নিহতদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তারাকান্দা উপজেলা প্রশাসন থেকে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। আমি যোগাযোগ করেছি তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এইচ এম কামাল/এমআরআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]