শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০২১

নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কাজী নাসির উদ্দিনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. রফিকউল্লাহ খান স্বাক্ষরিক এক চিঠিতে তাকে এ অব্যাহতি দেয়া হয়। অব্যাহতি পত্রে উল্লেখ করা হয় ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আপনাকে অব্যাহতি দেয়া হলো’।

কাজী নাসির উদ্দিন এর আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ছিলেন। অব্যাহতিপত্র গ্রহণ করে তিনি সোমবার পূর্বের কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।

কাজী নাসির উদ্দিন বলেন, গত রোববার আমার অব্যাহতি পত্রটি হাতে পাই। এ সময় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম। পরদিন সোমবার আমি পূর্বের কর্মস্থলে যোগদান করেছি। হঠাৎ করে কেন অব্যাহতি এ নিয়ে তিনি বলেন, টেন্ডার ড্রপ, ট্রেজারারকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম কাজের সুযোগ, নিয়োগসহ নানা অনিয়ম করতে না দেয়ায়।’ গত বৃহস্পতিবার টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ওদিনই আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে। এ বিষয়ে আমি কোন কিছু বলতে পারব না। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত। তবে আমাকে এভাবে অব্যাহতি দেয়া উচিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে এটা নেই। বেশ কিছু প্রসেস মেইন্টিন করে অব্যাহতি দিতে হয়।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আমি কোন পদক্ষেপ নিতে যাব না। সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে আমি যেতে পারি না।’

এ ব্যাপারে উপাচার্য রফিকুল্লাহ খান বলেন, ‘তার (রেজিস্ট্রার) আচরণগতসহ বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। অনেকদিন থেকেই নেত্রকোনাবাসী উনার প্রতি বিরক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিন্ডিকেট, ইউজিসি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ আরও অনেকেই তার নানা আচরণে বিরক্ত। তার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে আমাকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তার উদ্ধত আচরণে মানুষের কাছে আমাকে হাত জোর করে ক্ষমা পর্যন্ত চাইতে হয়েছে। এ সব বিভিন্ন কারণে বিধি সম্মতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’

এদিকে কাজী নাসির উদ্দিনের অব্যাহতি খবর পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ নেত্রকোনাবাসী অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। শহরের রাজুর বাজার এলাকায় ৫০০ একর জমিতে স্থাপিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বর্তমানে ওই এলাকায় টিটিসিতে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গত বছর একনেকে ২ হাজার ৬৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা অনুমোদন দেয়া হয়। ২০০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে চারটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়। কাজী নাসির উদ্দিন গত ২০১৮ সালে ৩ সেপ্টম্বর প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

এইচ এম কামাল/জেএইচ/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।