সাবেক সংসদ সদস্যের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন পরিবহন মালিকরা
‘আমার ৬-৭টি গাড়ি ছিল। করোনাকালীন দুর্যোগে পড়ে ১০ চাকার একটি গাড়ি মাত্র পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের কারণে আরও গাড়ি বিক্রি করার পরিস্থিতি হয়েছে। আমার মতো আরও অনেক পরিবহন মালিক এমন বিপদে থাকলেও মালিক সমিতি কোনো কাজে লাগেনি’।
সোমবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে পাবনা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সভায় এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন আব্দুল হালিম নামের একজন পরিবহন মালিক।

তিনি আরও বলেন, সমিতির সদ্য সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল হক আরজুর স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করায় সমিতিটি অকার্যকর হয়ে রয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী নগরবাড়ী ঘাট সংলগ্ন হরিণাথপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সদ্য সাবেক সভাপতি আজিজুল হক আরজুর অনুপস্থিতিতে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৯ বছরে একটি সভাও না হওয়ায় সাধারণ সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মালিক সদস্যরা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবহন মালিক আব্দুর রাজ্জাক। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু।
প্রধান অতিথি রেজাউল হক বাবু অবিলম্বে ভোটের মাধ্যমে পরিবহন মালিক সমিতির নির্বাচন করার আহ্বান জানান।

সমিতির সেক্রেটারি ও আওয়ামী লীগ নেতা, পুরাণভারেঙ্গা ইউপির চেয়ারম্যান এ এম রফিকুল্লাহ জানান, পুরো কমিটি সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আজিজুল হক আরজুর হাতে জিম্মি ছিল।
তিনি বলেন, আজিজুল হক আরজু সমিতির পুরো হিসাব দিতে কোষাধ্যক্ষকে বাধা দিয়েছেন। সাধারণ সভায় উপস্থিত না হয়ে সমিতির সব কাগজপত্র তালাবদ্ধ করে ঢাকায় চলে গেছেন।

আব্দুল বারেক নামের এক পরিবহন মালিক বলেন, নগরবাড়ী এলাকার পরিবহন মালিকরা ঘাটের ভাড়া পান না। ভাড়া দেয়া হয় অন্য এলাকার পরিবহন মালিকদের। কারণ তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করা যায় সহজেই।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কাবুল মণ্ডল, প্রভাষক হাফিজুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা নাছির উদ্দিন ব্যাপারী, শাহজাহান আলী সাজু প্রমুখ।
শেষে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সভা ও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
এদিকে পাবনা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সদ্য সাবেক সভাপতি আজিজুল হক আরজুর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও কল রিসিভ করেননি।
আমিন ইসলাম/এসএমএম/জিকেএস