আম্ফানও দমাতে পারেনি এলাচ চাষি শাহজাহানকে

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল
প্রকাশিত: ০৯:১৪ এএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২১

রান্নার সুঘ্রাণ বাড়াতে দেশে এলাচের চাহিদা ব্যাপক। চাহিদা মেটাতে আমদানি করা হয় এ মসলা। মসলাজাতীয় ফসল এলাচ চাষে অপার সম্ভাবনা রয়েছে দেশে। চীন ও মিয়ানমারসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের উর্বর জমি এলাচ চাষের উপযোগী।

দেশে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে এলাচ চাষ শুরু করেন বেনাপোল পৌরসভার নারানপুর গ্রামের মো. শাহজাহান আলী। ৯ বছর আগে ২০১২ সালে পৌরসভার সামনে পাঠবাড়ি এলাকায় এক বিঘা জমিতে দুই জাতের এলাচ চাষ শুরু করেন। ওয়েবসাইটে এলাচ চাষের ফর্মুলা দেখে উদ্বুদ্ধ হন। পরে বিদেশ থেকে এলাচ গাছের ৭০টি মূল সংগ্রহ করেন।

তিনি বলেন, প্রথমে অন্য ফসলের মাঠে এলাচ চাষ করি। কিন্তু ফলন ভালো হয়নি। পরে একটি মেহগনি বাগান (গাছের ছায়াযুক্ত স্থান) লিজ নিয়ে চাষ শুরু করি। এতে ফলন ভালো হয়। ২০১৬ সালে যে গাছ রোপণ করা হয়েছিল তাতে ২০১৯ সালে কিছু ফল এসেছিল। যেটা বিক্রির পর্যায়ে ছিল না। প্রথম ফল সে কারণে আত্মীয়স্বজন ও পরীক্ষার জন্য রাখা হয়। কিন্তু গত ২১ মে আম্ফানে বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফুল আর ফলে ভরা এলাচ খেত দেখতে এক সময় দেশি-বিদেশি লোক আসতো। কিন্তু আম্ফানে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এখন দু-একজন এলেও এলাচ গাছ দেখতে না পেয়ে ফিরে যান।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, একটা চারা কমপক্ষে ৩০ বছর পর্যন্ত ফল দেয়। এলাচ খুব লাভজনক চাষ। প্রতি একর জমিতে ১২০০টি চারা রোপণ করা যায়, যা থেকে এককালীন প্রায় ১৫ লাখ টাকার এলাচ বিক্রি সম্ভব। অন্য কোনো চাষে এত লাভ সম্ভব নয়।

এলাচ চাষ শুরুর পর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্রের একদল বৈজ্ঞানিক ফলন দেখতে বাগান পরিদর্শন করে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাগান থেকে নমুনাও সংগ্রহ করেন। এরপর কোনো খোঁজ নেয়নি।

jagonews24

বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কলিম উদ্দীন বলেন, এলাচ নিয়ে মসলা গবেষণা ইনস্টিটিউটে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে। বেনাপোলের এলাচ গাছ ভিন্ন ধরনের জাত। এ এলাচের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। দেশের আবহাওয়ায়ও এলাচ চাষ সম্ভব তার প্রমাণ বেনাপোল। শাহজাহান যে এলাচ চাষ করছেন সেটির সুঘ্রাণ রয়েছে।

এলাচ বাগানের শ্রমিক ইউনুছ আলী জানান, গ্রামে এলাচ চাষ হওয়ায় অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছিল। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ দেখতে আসত। আম্ফানে বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় লোকজন এখন তেমন আসে না।

jagonews24

আম্ফানে ক্ষতি হলেও থেমে নেই শাহজাহান আলী। নতুন করে মাটি সংগ্রহ করে চারা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এলাচের চারা নিতে বুকিং দিচ্ছেন অনেকে।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল জানান, শাহজাহান দেশের প্রথম এলাচ চাষি। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আগে পরে শাহজানের এলাচ বাগান কয়েকবার পরিদর্শন করা হয়েছে। বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ অনেকে এসেছেন। বাণিজ্যিকভাবে এলাচ চাষ দেশে প্রথম শুরু করলেও আম্ফানে সব শেষ। এখন চারা করা হচ্ছে। গাছ রোপণ করলে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এলাচ চাষী শাহজাহান। গবেষণা করে এজাতীয় মসলার চাষ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে পারলে আমদানিনির্ভরতা কমবে।

এএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]