ডালে আগ্রহ কম পাহাড়ে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাঙ্গামাটি
প্রকাশিত: ০৪:৫৪ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২১

মনোমনি চাকমা। থাকেন রাঙ্গামাটি সদরের অদূরে সাপছড়ির মধ্যপাড়া আদামে (গ্রাম)। ছোটবেলা থেকেই মাটির সঙ্গে সম্পর্ক। এক জীবন কাটিয়েই দিলেন তিনি কৃষি আর মাটির সঙ্গে। চাষ করেন মটরশুঁটি, বিলাতি ধনিয়া ও বিভিন্ন শাকসবজি।

দুর্গম এই পাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে কথা হয় মনোমনি চাকমার সঙ্গে। ভূ-প্রকৃতিগত কারণে ডাল চাষ নিয়ে জানান মনোমনি চাকমাদের কঠিন সংগ্রামের কথা। মটরশুঁটি নিয়ে জমি চাষে ব্যস্ত মনোমনি সারল্যমাখা চেহারায় হাসি দিয়ে বলেন চাষের আদ্যপান্ত।

তিনি বলেন, আগস্ট মাসে মটরশুঁটির চাষ শুরু করা হয়। মাঝে মাঝে পরিচর্যা করতে হয়। তিন ডিসিমাইল জমিতে চাষ করে চৈত্র (বৈশাখ) মাসে ফসল তোলা হয়। গত বছর চাষ করে লাভের মুখ দেখেননি বলেও জানান তিনি।

মনোমনি বলেন, গত বছর বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি হয়েছিল, আবার যখন ফসল তোলার সময় হলো তখন করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ ছিল। তাই মটরের কোনো দামই পাইনি। এবার যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে ভালো দামের আশা করছেন তিনি।

তিনি জানালেন, তিন ডিসিমাইল জমিতে মটর চাষ করে ২-৩ মণ মটর উৎপাদন হতে পারে। ভালো দাম পেলে খরচ বাদ দিয়ে ১৫-২০ হাজার টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে দুর্গম অঞ্চলে চাষাবাদের কারণে বাজারে পণ্য পরিবহনে প্রচুর টাকা খরচ করতে হয় বলে জানালেন তিনি।

মনোমনি জানালেন, সাপছড়ি গ্রামে মটরশুঁটির মোটামুটি চাষ হলেও অন্য কোনো ডালের আবাদ এই জায়গায় হয় না। সমতল ভূমি না থাকার কারণে ডালের চাষ খুবই কম হয় বলে জানালেন তিনি।

jagonews24

কৃষি বিভাগের সাপছড়ি ব্লকের সুপারভাইজার মো. হারুন জানালেন, এই গ্রামে মোটামুটি মটরশুঁটির চাষ হয়ে থাকে। অন্য কোনো ডাল তেমন একটা উৎপাদন হয় না বললেই চলে। মোটামুটি ১০ একর জমিতে মটরশুঁটির চাষ হয়। তবে সেচের জন্য পানি বড় একটা সমস্যা বলে জানালেন তিনি।

এজন্য এলাকায় কিছু গভীর নলকূপ এবং সাপছড়ি থেকে মানিকছড়ি পর্যন্ত ছড়াটি খনন করা গেলে এই এলাকায় কয়েকশ চাষির উপকার হত বলেও তিনি জানান। বর্তমানে এই এলাকায় দুই ফসলি চাষ হয়ে থাকে। ছড়া খনন সম্ভব হলে তিন ফসলি চাষ করা যাবে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটিতে সমতল ভূমি কম হওয়ার কারণে তেমন একটা ডালের আবাদ হয় না। সমতল ভূমির ৮০ ভাগ জায়গায় ধান চাষ হয়ে থাকে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জেলায় ডাল জাতীয় ফসল চাষাবাদ হয়েছে ১৭২ একর জমিতে এবং উৎপাদন হয়েছে ২৪৮ মেট্রিক টন ডাল। এর মধ্যে মসুর ডাল আবাদ হয়েছে ১৭ একর জমিতে, আর উৎপাদন হয়েছে ২১ মেট্রিক টন, খেসারি ৫ একর জমিতে ৬ মেট্রিক টন, মুগ ১১ একর জমিতে ১২ মেট্রিক টন, মটর ১১৫ একর জমিতে ১৭৯ মেট্রিক টন, মাষকলাই ৩ একর জমিতে ৩ মেট্রিক টন, আড়হড় ২১ একর জমিতে ২৭ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে।

কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক বলেন, সমতল জায়গা কম থাকার কারণে এখানে চাষিদের ডালের প্রতি আগ্রহ কম। তবে মসলা ও ডাল জাতীয় একটা প্রকল্প চালু থাকলেও চাষিদের আদা, হলুদ জাতীয় মসলা ফসলের প্রতি ঝোঁক বেশি থাকার কারণে ডালের উৎপাদন এই অঞ্চলে কম। তারপরও আমরা চাষিদের ডাল চাষের জন্য উৎসাহ দিচ্ছি।

শংকর হোড়/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]