লক্ষ্মীপুরে শ্রমিক হত্যা: পুলিশের পদক্ষেপ জানতে চেয়েছেন আদালত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৯:২২ এএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২১

লক্ষ্মীপুরে ইটভাটা শ্রমিক কাশেম আলীকে (২৮) হত্যার ঘটনায় আদালতে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এতে সদর থানা পুলিশের পদক্ষেপ জানতে চেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী অঞ্চলের (সদর) বিচারক তারেক আজিজ এ নির্দেশনা দেন। বাদীর আইনজীবী লুৎফুর রহমান রহিম গাজী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত কাশেম আলীর সহধর্মীনী নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ ও অচেনা চারজনের নামে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী অঞ্চলে (সদর) মামলা করেন।

বাদীর আইনজীবী লুৎফুর রহমান রহিম গাজী বলেন, কাশেম হত্যার ঘটনায় আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি আদালতের বিচারক তারেক আজিজ আমলে নিয়েছেন। হত্যার ঘটনায় সদর থানা পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপসহ আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। প্রতিবেদন অনুযায়ী আদালত পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।

আসামিরা হলেন- সদর উপজেলা তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের আন্ধারমানিক এলাকার জসিম ব্রিক ফিল্ডের মাঝি মো. সবুজ, তার ভাই মো. মঞ্জু, মো. স্বপন, একই এলাকার ইব্রাহিম ও অচেনা চারজন।

এজাহার সূত্র জানায়, ইটভাটার মাঝি সবুজ এক লাখ ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে কাশেমকে কাজে নিয়োগ দেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী কাজে যোগদানের আগে সকল টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও সবুজ তা করেননি।

কাশেমকে তিনি ৯৪ হাজার টাকা দেন। বাকি ২১ হাজার টাকার জন্য কাশেম একাধিকবার সবুজকে বলেন। কিন্তু তিনি তাতে কর্ণপাত করছিল না। এ নিয়ে ১৪ জানুয়ারি কাশেম টাকার জন্য সবুজের বিরুদ্ধে সালিসি বৈঠক বসানোর হুশিয়ারি দেন।

ক্ষুব্ধ হয়ে সবুজ তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। এতে কাশেমও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে দেশীয় অস্ত্রসহ সবুজ অন্যান্য আসামিদের নিয়ে ইটভাটায় কাশেমের ওপর হামলা করেন। পরে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে।

উপস্থিত সবার সামনে কাশেমকে হত্যার হুশিয়ারি দেন সবুজ। বিষয়টি কাশেম তার স্ত্রী ও মামলার বাদী নুরজাহানকে জানিয়েছিলেন।

১৮ জানুয়ারি সকালে কাশেম ইটভাটা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হন। পথে আবদুর রহিমের দোকানে চা খেয়ে ফেরার পথেই আসামিরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে

একপর্যায়ে মাফলার দিয়ে গলা পেঁচিয়ে গাছের একটি ভাঙা ডালের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

বাদী নুরজাহান বেগম জানান, কাশেমকে পরিকল্পিতভাবে সবুজ মাঝিসহ আসামিরা হত্যা করেছে। ঘটনাটিকে অন্যদিকে নিতে তারাই পুলিশকে ফোন দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা সাজিয়েছে। আসামি স্বপন তাকে থানায় নিয়ে সাদা কাগজে সই নিয়ে অপমৃত্যু মামলা করিয়েছে। স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে তিনি আদালতে সবুজসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

এদিকে ঘটনার দিন পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে ইটভাটার মাঝি মো. সবুজ নিজেকে কাশেমের চাচাতো ভাই পরিচয় দিয়ে বক্তব্য দেন। তখন তিনি জানান, ইটভাটা থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে কে বা কারা কাশেমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছিলেন সবুজ।

কাজল কায়েস/এসএমএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।