শত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত খোদেজা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০২:৩৫ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২১

বৃদ্ধা খোদেজা বেওয়ার চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে যে ওষুধ লাগবে তা কেনার খরচ দেয়ার কথা জানিয়েছেন পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাগো নিউজের কাছে অসহায় ওই বৃদ্ধার খোঁজখবর নেয়ার পর একথা জানান তিনি। পাবনা জেলা প্রশাসনও তার বর্তমান অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছে।

এদিকে সারাদেশ থেকে কয়েকশ মানুষ ফোন করে খোদেজা বেওয়ার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছেন। অনেকে তার জন্য মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অর্থ পাঠিয়েছেন। বেশ ক’জন প্রবাসী দেশে থাকা তাদের স্বজনদের মাধ্যমে এ বৃদ্ধার জন্য অর্থ পাঠিয়েছেন।

এমনকি মাধ্যমিকে পড়া একজন ছাত্রীও ২০০ টাকা দিয়ে মানবিক কাজে সম্পৃক্ত হয়েছেন। সবার ভালোবাসায় হাসি ফুটেছে অসহায় বৃদ্ধা খোদেজার মুখে। জয় হয়েছে মানবতার।

পাবনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, আগে মায়ের জন্য চোখের ওষুধ, ড্রপ কিনতাম। এখন তো আর কেনার সৌভাগ্য হয় না। কারণ পাঁচ বছর হলো ‘মা হারা’ হয়েছি। সেই চোখের ড্রপটি এখন এই বুড়ি মায়ের জন্যই কিনে দেব। চিকিৎসক দেখিয়ে তার চোখের ওষুধ ও চশমা কেনার ব্যবস্থাও তিনি করবেন বলে জানান।

jagonews24

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক জিএস গোলাম রাব্বানী ফোন করে জানিয়েছেন তারাও আছেন খোদেজা বেওয়ার পাশে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হায়দার আলী, এটিএন বাংলা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক বরকত উল্লাহ সুজনসহ দেশের অনেক মানুষ মোবাইলে এ বৃদ্ধার খোঁজ নিয়েছেন এবং অর্থ পাঠিয়েছেন। অনেকেই তাকে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর সোমবারই (২৫ জানুয়ারি) বিভিন্ন জনের দেয়া ২০ হাজার টাকা খোদেজা বেগমের হাতে তুলে দেন পাবনা প্রতিনিধি আমিন ইসলাম।

এ সময় সেখানে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহমেদ এবং স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তার জন্য জমা হওয়া আরও প্রায় ১০ হাজার টাকা খোদেজা বেগমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (খোদেজার সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ৩৯৩৯৯০১০০০১৩৫৮, রূপালী ব্যাংক, বনগ্রাম শাখা, পাবনা) জমা দেয়া হয়েছে। আরও কেউ আগ্রহী হলে ব্যাংকের এই হিসাব নম্বরে অর্থ সহায়তা করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, সোমবার সকালে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজে একটি লেপের জন্য রাস্তায় ঘোরেন ১৯৫২ সালের ম্যাট্রিক পাস খোদেজা শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। খোদেজা বেওয়া পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গাঙ্গহাটি গ্রামের একজন হতদরিদ্র বাসিন্দা। তিনি গাঙ্গহাটি গ্রামের মৃত শাহাদত আলি খানের মেয়ে। ১৯৫২ সালে ম্যাট্রিকুলেশন (বর্তমান এসএসসি) পাস করেন এই নারী।

আমিন ইসলাম/এফএ/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।