সরকারি হাসপাতালে এক বছর ধরে নেই নিউমোনিয়ার মেরোপেনেম ইঞ্জেকশন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৬:১০ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২১

মাঘের শুরু থেকেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। খুব একটা দেখা মেলে না সূর্যের। শীতের এমন আচরণের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়ায়।

সর্বশেষ বুধবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি এই হাসপাতালে নিউমোনিয়া আক্রান্ত ৫০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।

হঠাৎ শীত বাড়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে শিশু ও নবজাতক রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে মেঝেতে দেয়া হচ্ছে চিকিৎসা।

জেলার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন রোগও বেড়ে চলছে। শ্বাসকষ্ট, কোল্ড ডায়রিয়া এবং নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় প্রতিদিন অর্ধশতাধিক শিশু ও নবজাতক হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন হাসপাতালের জরুরি ও বহির্বিভাগে ৩০০-৪০০ শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

jagonews24

সরকারি এই হাসপাতালে বেশিরভাগ ওষুধের সরবরাহ থাকলেও নিউমোনিয়ার কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক মেরোপেনেম ইঞ্জেকশন ৫০০ মি.লি. বাইরে থেকে ৫০০-৭০০ টাকা কিনে আনতে হচ্ছে শিশুর স্বজনদের। অথচ হাসপাতালের কয়েকটি ওয়ার্ডে এই মেরোপেনেম ইঞ্জেকশন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক বছর শিশু ওয়ার্ডে মেরোপেনেম ইঞ্জেকশন সরবরাহ করা হয় না। আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি হওয়ায় এই ঠান্ডার রোগ নিয়ে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে শিশুদের। হাসপাতালে অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হাসপাতালের শিশু বিভাগে কর্তব্যরত নার্স ফেরদৌসী বেগম জানান, তাপমাত্রা কমে ঠান্ডা বেড়ে যাওয়ায় শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন নতুন রোগী আসছেন, আবার অনেকে ছাড়পত্র নিয়ে চলে যাচ্ছেন। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আসা রোগীদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে প্রায় সব ওষুধ দেয়া হলেও সরবরাহ না থাকায় মেরোপেনেম ইঞ্জেকশন দেয়া যাচ্ছে না। সর্বশেষ গত বছরের ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখ শিশু ওয়ার্ডে ১০০ পিছ মেরোপেনাম ইঞ্জেকশন সরবরাহ করা হয়েছিল।’

jagonews24

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এবিএম মোসা জানান, তীব্র ঠান্ডায় ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সেবা নিতে হাসপাতালে আনা হচ্ছে। তাদের চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজন হলে শিশু কনসালটেন্টের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

হাসপাতালের শিশু কনসালটেন্ট আকতার হোসেন জানান, প্রতিদিন গড়ে অর্ধশতাধিক শিশু শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে শিশু বিভাগে ভর্তি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘মেরোপেনেম ইঞ্জেকশন সরবরাহ থাকলে ভালো হতো। জানতে পেরেছি, শিশু ওয়ার্ডে মেরোপেনেম ইঞ্জেকশন নেই। মেরোপেনেম না থাকলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেফট্রিয়াকজন ইঞ্জেকশন কাজ করে।’

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শওকত হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালে দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকলেও আমাদের সাধ্য অনুযায়ী শিশুদের সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। সব ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। মেরোপেনেম আমাদের সাপ্লাই নেই। সাপ্লাই থাকলে তা প্রতিটি ওয়ার্ডে সরবরাহ করা হয়।’

এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]