দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আ.লীগ, নিয়ম রক্ষার প্রার্থী বিএনপির

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৭:২৫ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২১

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী ফাঁকা মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। বিএনপির তোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু যেন নিয়ম রক্ষার প্রার্থী। শুরু থেকেই তিনি মাঠে নেই, খুঁজে পাচ্ছেন না দলীয় নেতাকর্মীরাও। এ অবস্থায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী।

এদিকে ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ঘিরে পৌরসভার প্রায় প্রত্যেক ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা মুখোমুখি অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ৩, ৪ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সংঘর্ষে অনেকেই আহত হন। ফের যেকোন সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রেগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার ও অধিক সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী। লিখিতভাবে তারা রিটার্নিং অফিসার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) কাছে আবেদন করেছেন। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) রায়পুর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার স্পিনা রানী প্রামাণিক ও রামগঞ্জ থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, রামগঞ্জে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে ১৪ টি ভোট কেন্দ্রে ৩৬ হাজার ৩২১ ভোটার রয়েছে।

jagonews24

পৌর বিএনপির দুই নেতা অভিযোগ করেন, প্রার্থী তাদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন না। তিনি নেতাকর্মীদের মোবাইল ফোনও ধরেন না। ভোটের কয়েকদিন বাকি থাকলেও প্রার্থী যেন হাওয়া। অনেকেই তাকে নিয়ম রক্ষার প্রার্থী বলছেন।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো মধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাপুর আহম্মদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আউগানখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামগঞ্জ স্টেশন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলছমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কাজিরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর দরবেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মধ্য আঙ্গারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছেন প্রশাসন।

পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মামুনুর রশিদ আখন বলেন, আমি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। ইতোমধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বহিরাগত লোকজনকে জড়ো করে বিশৃঙ্খলা করার পরিকল্পনা করছে। জনসমর্থন না থাকায় তারা ভোটারদের সঙ্গেও বেপরোয়া আচরণ করছেন।

jagonews24

স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আহসান হাবীব ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মনির হোসেন রানা জানান, প্রচারণা চালাতে গেলে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর লোকজন হামলা চালিয়েছেন। ভোট কেন্দ্রে না আসার জন্য ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। সহিংসতা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে তারা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা মো. আবু তাহের বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো শনাক্তের কাজ চলছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা সতর্ক রয়েছি।

জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) স্পিনা রানী প্রামাণিক বলেন, আমরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো শনাক্ত করেছি। রামগঞ্জ থানা পুলিশের বাইরেও স্পেশাল ব্রাঞ্চ, গোয়েন্দা (ডিবি) ও সাদা পোশাকদারী পুলিশ কেন্দ্র নিরাপত্তায় থাকবে।

কাজল কায়েস/আরএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]