চিকিৎসায় অবহেলা, ডাক্তারের বিচার দাবিতে নার্সদের বিক্ষোভ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১১:১৪ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২১

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের এক নার্সের বাবার মৃত্যুর পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেছে হাসপাতালের অন্যান্য নার্সরা।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিক্ষোভ করে তারা। এই বিক্ষোভের কারণে প্রায় আধাঘণ্টা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা জরুরি বিভাগের চিকিৎসককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে আসে সদর মডেল থানার পুলিশ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের সিনিয়র স্টাফ নার্স রাজিবের বাবা বুলবুল (৫০) অসুস্থ হয়ে পড়লে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সফিউল্লাহ আরাফাত রাজিবের অসুস্থ বাবার কাছে আসেননি। এর প্রায় ২০ মিনিট পর চিকিৎসক সফিউল্লাহ আরাফাত অসুস্থ বুলবুলকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর নার্স রাজিবের বাবা মৃত্যুবরণ করেন।

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ওই হাসপাতালের অন্যান্য সকল নার্স বিক্ষোভ করেন। এ সময় বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা। স্বাধীনতা নার্স পরিষদের সহ-সভাপতি নাসিমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসী বেগমের নেতৃত্বে ৩৫-৪০ জন নার্স বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন।

jagonews24

এ বিষয়ে স্বাধীনতা নার্স পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফেরদৌসী বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘যেখানে আমরা নার্সরা প্রায় ২৪ ঘণ্টা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি, সেখানে আমাদের পরিবারের সদস্যরা বিনা চিকিৎসায় কেন মারা যাবেন? এই চিকিৎসায় অবহেলার জন্য চিকিৎসক সফিউল্লাহ আরাফাতের বিচার চাই।’

বিক্ষোভের বিষয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শওকত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করবো। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক সফিউল্লাহ আরাফাতের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারব না। জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সব চিকিৎসক আলোচনা করে আপনাদের বিস্তারিত জানাব।’

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, বিক্ষোভের খবর পেয়ে হাসপাতালে যায় পুলিশ। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।

এআরএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]