নির্বাচনের আগেই উত্তপ্ত রামগঞ্জ, আরও সংঘর্ষের আশঙ্কা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০২:৪৯ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২১

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌর নির্বাচনে কয়েকটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগেই কয়েক দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছেন তাদের কর্মী-সমর্থকরা। সহিংসতা এড়াতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে আবেদনও জানিয়েছেন ভোটাররা।

পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডে সহিংসতার আশঙ্কায় ৩২ জনের নাম-পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ও সহিংসতা রোধে জেলা প্রশাসক, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ সুপার ও র্যাবের কাছে ওই ওয়ার্ডের ভোটার রাকিবুল হাসান অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানানো হয়।

এর মাঝেই বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ১ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপুর বাজার এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থী যুবলীগ নেতা শাখাওয়াত হোসেন রাজু ও ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হাসান ফয়সাল মালের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংর্ঘষ ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া হয়েছে। এ সময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলির আওয়াজ শোনা গেছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় প্রার্থীরা একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে দোষারোপ করেছেন। পরে রামগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এর আগে ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনেও এই ওয়ার্ডের আহম্মদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মধ্য সোনাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সহিংসতা হয়েছিল। এ জন্য নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত রাখতে ওই দুই কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার দাবি করেছে এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই দুটি কেন্দ্র ছাড়াও আরও ৭ টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। সেগুলো হলো ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আউগানখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামগঞ্জ স্টেশন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলছমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কাজিরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর দরবেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মধ্য আঙ্গারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রশাসনও এসব কেন্দ্রের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা মো. আবু তাহের এ বিষয়ে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা সতর্ক রয়েছি।’

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) স্পিনা রানী প্রামাণিক বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো শনাক্ত করেছি। রামগঞ্জ থানা পুলিশের বাহিরেও স্পেশাল ব্রাঞ্চ, গোয়েন্দা (ডিবি) ও সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা কেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকবে। আমি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক পরিদর্শনে আছি।’

সম্ভাব্য সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রিয়াজুল কবির বলেন, ‘আমরা কাজে বিশ্বাসী। রামগঞ্জের নির্বাচন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। ৩২ জন নয়, ৩০০ জন এলেও কোনো সহিংসতা করার সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে ম্যাজিষ্ট্রেটসহ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় থাকবে।’

রামগঞ্জে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে ১৪ টি ভোটকেন্দ্র এবং ৩৬ হাজার ৩২১ জন ভোটার রয়েছেন।

কাজল কায়েস/এমএইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।