শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা : চাচাসহ দুজনের ফাঁসি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০১:২২ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার সরদারকান্দি গ্রামের শিশু লিজা আক্তারকে (১৩) গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুস ছালাম খান বুধবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে এ আদেশ দেন।

এছাড়া শিশুটির মরদেহ গুম করার অপরাধে দুজনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, লিজার চাচা ফরিদ শেখ (৩৪) ও চাচাতো ভাই জাকির শেখ (২৮)।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ কৌঁসুলি (পিপি) ফিরোজ আহমেদ বলেন, ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই শনিবার বিকেলে স্কুল ছুটির পর বাইসাইকেল নিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় বের হয় লিজা। সন্ধ্যা হয়ে গেলে বাড়িতে না ফেরায় খোঁজাখুঁজি করে তার পরিবার। পরে সখিপুর থানায় একটি জিডিও করা হয়।

এক সপ্তাহ পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সখিপুর ইউনিয়নের ছৈয়ালকান্দি গ্রামের একটি পাটখেতের পানিতে লিজার মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। সখিপুর থানায় খবর দিলে লিজার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লিজার বাবা লেহাজ উদ্দিন সরদার বাদী হয়ে মামলা করেন।

জানা যায়, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। কিন্তু ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে নিয়ে গেলে লিজার জরায়ু, লিভার, ফুসফুস, কিডনি ও হৃদযন্ত্রসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ পাননি ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। পরে ডিএনএ টেস্ট করার জন্য শরীরের কিছু অংশ ঢাকা মেডিকেল ও মহাখালীতে পাঠানো হয়।

তদন্ত শেষে সখিপুর থানার পুলিশ দু’জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ আলম জানান, তারা রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

ছগির হোসেন/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।