একুশে পদক পাচ্ছেন মির্জাপুরের ফজলুর রহমান খান ফারুক

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ১২:০১ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক গণ পরিষদ সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ফজলুর রহমান খান ফারুক এ বছর ‘একুশে পদক’ পাচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে সর্বোচ্চ এ পদক দিতে মনোনীত করেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ফজলুর রহমান খান ফারুক ‘একুশে পদক’ পাচ্ছেন এ সংবাদ মির্জাপুরে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, শিক্ষক, সুধী সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এক আনন্দ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময় সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য ছিলেন ফজলুর রহমান খান ফারুক। এবার ২১ জন গুণী ব্যক্তি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ‘একুশে পদক’ পাচ্ছেন। এরমধ্যে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের সন্তান ফজলুর রহমান খান ফারুকও ‘একুশে পদক’ পাচ্ছেন।

ফজলুর রহমানের বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের কহেলা গ্রামে। ১৯৪৪ সালের ১২ অক্টোবর ওই গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। বাবা প্রয়াত আব্দুল হালিম খান ও মা প্রয়াত ইয়াকুতুন্নেছা খানমের আট সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নতুন প্রজন্মের কাছে রয়ে গেছে অজানা হয়ে। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি করেছেন সাংবাদিকতাও। ১৯৬২-৬৫ সাল পর্যন্ত দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ও টাঙ্গাইল মহকুমা প্রেস ক্লাব এবং টাঙ্গাইল মহকুমা মফস্বল সংবাদদাতা সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এখন তার সম্পাদনায় টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত হচ্ছে ‘আজকের দেশবাসী’ নামের একটি দৈনিক পত্রিকা।

এছাড়া ফজলুর রহমান খান ফারুক মির্জাপুর প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক এই নেতা টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এখনও আওয়ামী রাজনীতিতে অবদান রেখে চলেছেন।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পর নিজ নির্বাচনী এলাকা মির্জাপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে ছাত্র-যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং ঢাকার বাইরে ৩ এপ্রিল মির্জাপুরের গোড়ান-সাটিয়াচড়া প্রথম প্রতিরোধযুদ্ধে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।

১৯৭২ সালে তিনি রেডক্রসের আজীবন সদস্যপদ লাভ করেন এবং ১৯৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলা রেডক্রসের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালের ১ এপ্রিল মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি মির্জাপুরের গোড়াই উচ্চ বিদ্যালয়, দেওহাটা এ জে উচ্চ বিদ্যালয়, কুড়িপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, রাজাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, মির্জাপুর ফুলকুড়ি শিশু নিকেতন ও মির্জাপুরের ২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৭৪-৭৮ সাল পর্যন্ত মির্জাপুরের বিভিন্ন গ্রামে ১৭৭টি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন। ১৯৭৭-২০০১ সাল পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ও ক্রিকেট উপ-পরিষদের সভাপতি এবং জেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া টাঙ্গাইলের শতবর্ষ প্রাচীন করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব ও টাঙ্গাইল ক্লাব, টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগার, জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও টাঙ্গাইল হার্ট ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে ফজলুর রহমান খান ফারুক একুশে পদকে মনোনীত হওয়ায় আমি নিজে গর্বিত এবং সারা টাঙ্গাইলবাসীও গর্বিত।

একুশে পদক প্রাপ্ত ভাষাসৈনিক কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক (শিক্ষা) প্রতিভা মুৎসুদ্দি বলেন, ‘ফারুক ভাই আমার গুরু। উনার মতো দেশ প্রেমিক, উনার মতো মানবপ্রেমিক মানুষ আর হয় না। তাকে একুশে পদক দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় আমি উল্লসিত’।

এস এম এরশাদ/এসএমএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।