এমপি সমর্থকদের তোপের মুখে পুলিশ প্রহরায় বাড়ি ছাড়লেন স্বাস্থ্যসচিব

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:২৪ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

স্থানীয় সংসদ সদস্যকে না জানিয়ে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুরে নিজের গ্রামের বাড়ির পেছনে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ায় তোপের মুখে পড়েছেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান।

এমপির সমর্থকদের হামলা ও ভাঙচুরের পর দীর্ঘসময় নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকার পর শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ প্রহরায় গ্রাম ছেড়েছেন তিনি।

অবরুদ্ধদশা থেকে বের হয়ে প্রশাসনের নিরাপত্তা বলয়ে গ্রাম ছাড়ার আগে তিনি অভিযোগ করেন, ‘এমপির নির্দেশে তার উদ্যোগে নির্মিত কমিউনিটি ক্লিনিক এবং বাড়িতে ভাঙচুর ও হামলা করেছে তার সমর্থকরা।’

হামলা করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি নূর মোহাম্মদ। তবে তিনি বলেছেন, ‘আমাকে না জানিয়ে এলাকার উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। আমি যদি নির্দেশ দেই, তবে উনি (সচিব) এলাকাতেই আসতে পারবেন না।’

স্বাস্থ্যসচিবের বাড়িতে হামলা, এসিল্যান্ড লাঞ্চিত

জানা গেছে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর গ্রামে তার বাড়ির পেছনে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করছেন। অভিযোগ রয়েছে- শনিবার সকালে ওই ক্লিনিকের সংযোগ সড়কের কাজ চলার সময় স্থানীয় এমপি নূর মোহাম্মদের সমর্থকরা ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার আশরাফুল আলমসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় সচিব আবদুল মান্নান নিজ বাড়িতে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন।

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কঠোর নিরাপত্তায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন সচিব আবদুল মান্নান।

সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি জিহাদুল কবীর। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে যান সচিব আবদুল মান্নান। রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জে করোনাভাইরাস টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল তার।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘এলাকায় এমন একটি উন্নয়ন কাজ (কমিউনিটি ক্লিনিক) হচ্ছে, সেটি আমি জানতাম না। এলাকার লোকজন এ বিষয়ে সচিবের কাছে জানতে গেলে তার (সচিব) লোকজন খারাপ আচরণ করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সচিব সরকারি চাকরিবিধি অমান্য করে এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।’

নূর মোহাম্মদ/এএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।