পাবনায় হত্যা মামলায় বাবা-ছেলের ফাঁসি
পাবনায় চাঞ্চল্যকর রায়হান চৌধুরী হীরা হত্যা মামলায় দুজনের ফাঁসি এবং তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় এ আদেশ দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-পাবনা পৌর সদরের পৈলানপুর মহল্লার মিজানুর রহমান মিজান ও তার ছেলে তুষার রহমান। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন হলেন-গোবিন্দা মহল্লার আব্দুর রশিদের ছেলে মাসুম হোসেন, কাছারীপাড়ার আজাহার আলীর ছেলে আরশেদ আলী ও পৈলানপুর মহল্লার মিজানুর রহমানের ছেলে মিশু হোসেন।
২০০৮ সালের ২৮ মে দণ্ডপ্রাপ্তরা পৈলানপুরের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রায়হান চৌধুরী হীরাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। মামলার ১২ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর আদালত এ রায় দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ২৮ মে বিকেল তিনটার দিকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পাবনা পৌর সদরে অবস্থিত পৈলানপুরের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রায়হান চৌধুরী হীরাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আজাহার আলী বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় ৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) হিফজুর আলম মুন্সী তদন্ত শেষে ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে মঙ্গলবার বিকেলে আদালত রায় দেন।

রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ মামলায় খালাসপ্রাপ্তরা হলেন-পাবনা পৌর সদরের পৈলানপুর মহল্লার মিজানুর রহমানের স্ত্রী চার্মি বেগম, উজ্জ্বল হোসেনের স্ত্রী পান্না বেগম এবং রওশন আলীর দুই ছেলে বকুল হোসেন ও মুকুল হোসেন।
রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী সরদার এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত মাসুমের বাবা জানান, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী সরদার জানান, এ রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আমিন ইসলাম/এসআর/জিকেএস