টাঙ্গাইলে প্রতিষ্ঠার ৩৭ বছর পর মাদরাসায় নির্মিত হলো শহীদ মিনার

আরিফ উর রহমান টগর
আরিফ উর রহমান টগর আরিফ উর রহমান টগর টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৬:৪৬ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার চর গাবসারা দাখিল মাদরাসাটি ১৯৮৪ সালে স্থাপিত হয়। তবে প্রতিষ্ঠার ৩৭ বছর পর নিজস্ব অর্থায়নে শহীদ মিনার নির্মাণ করেছে কর্তৃপক্ষ। পাকা ও স্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে এবারই প্রথম ২১ শে ফেব্রুয়ারি উদযাপন করেছে ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল শহর থেকে ৩১ কিলোমিটার দূর গোবিন্দাসী নৌকা ঘাট। এরপর নৌকা যোগে প্রায় ২০ মিনিট যাওয়ার পর যমুনা নদীর পুংলীপাড়া ঘাট। এরপর কমপক্ষে ১৫ মিনিট বালু চরে পায়ে হেঁটে যমুনা নদীর বুকে দুর্গম চরের মধ্যে অবস্থিত মাদরাসাটি পাওয়া যায়।

৭৫ শতক জমির উপর নির্মিত মাদরাসাটির ইবতেদায়ী থেকে দাখিল পর্যন্ত বর্তমানে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৪০২ জন। শিক্ষক-কর্মচারী আর স্টাফ সংখ্যা ১৫ জন।

চরাঞ্চলের অতি সাধারণ মানুষের সন্তানদের জন্য প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাটির সুনাম উপজেলা ব্যাপী থাকলেও ছিল না স্থায়ী শহীদ মিনার। ফলে ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবছর কলাগাছ দিয়ে শহীদ বানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপন করতো। এমনকি টিন ও কাঠ দিয়ে ছোট্ট করে শহীদ মিনার বানিয়ে সেটি বেঞ্চ বা চেয়ারের উপর রেখে ফুল দেয়া হতো। তাই ছাত্রছাত্রীদের দীর্ঘদিনের জোরালো দাবি ছিল একটি স্থায়ী শহীদ মিনারের।

jagonews24

মাদরাসাটির কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে, আমরা কলা গাছের শহীদ মিনার বানিয়ে ফুল দিতাম। অনেকবার স্যারদের বলেছি। আশেপাশেও ভালো কোনো শহীদ মিনার নেই। এবার নিজের মাদরাসায় নতুন পাকা শহীদ মিনারে ফুল দিতে পেরেছি। সত্যি আমাদের খুব আনন্দ লাগছে।

মাদরাসার সুপার আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ছাত্রছাত্রীদের দাবির সঙ্গে আমরাও অনুধাবন করি একটি স্থায়ী শহীদ মিনারের। সে লক্ষ্যে বিভিন্নস্থানে আর্থিক অনুদান পেতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থে ২০২০ সালের আগস্ট মাসে নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ করেছি।

তিনি আরও বলেন, দূরের বাজার থেকে এখানে ইট, রড, সিমেন্ট নিয়ে আসা যে কী কষ্টের বলে বোঝাতে পারব না। করোনা ও বন্যার মধ্যেই এটি বানিয়েছি। এখনো কিছু কাজ অসম্পূর্ণ আছে। ২০২১ সালের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেছি।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম বলেন, জেলার ১২টি উপজেলায় আমাদের ৯৮৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৮৩টি তে শহীদ মিনার নেই। ৪০৬ টিতে শহীদ মিনার আছে। মাত্র চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একেবারে নতুন শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে। যাতে এবারই প্রথম ফুল দেয়া হয়েছে।

জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট কবি বুলবুল খান মাহবুব বলেন, আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভাষা ও স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলাম। সরকারিভাবে দৃঢ় নীতিমালা করে সব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা দরকার।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আতাউল গণি বলেন, নতুন প্রজন্মকে জানাতে এবং সবাইকে চেতনায় উজ্জীবিত করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা উচিত। জেলার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই।

করোনার প্রভাব দূর হলে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর কর্তৃপক্ষকে শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য অনুরোধ করা হবে। প্রয়োজনে আমরা আর্থিক সহযোগিতা করবো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এমআরআর/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।