মামিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতে অস্বীকৃতি, কিশোরকে খুন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৪৯ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লালচান্দ চা বাগান এলাকায় কিশোর সোহাগ (১৩) হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলু মিয়াকে (২৫) ঘটনার আড়াই মাস পর গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে হত্যাকাণ্ডের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

মামিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশকে জানিয়েছে গ্রেফতারকৃত ফজলু। পরে মরদেহ ফেলে দেয়া হয় খালে।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলী আশরাফ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর সোহাগকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বাঁশ বাগানের ধোপাছড়া খালের মধ্যে ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত রঙ্গু মিয়ার ছেলে রাজু নামের একজনকে আটক করে। পরে ৬ ডিসেম্বর সোহাগের মা বাদী হয়ে থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবু বকর খান গ্রেফতারকৃত ফজলু মিয়ার স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে জানান, সোহাগের বাবা হিরণ মিয়া মারা যাওয়ার পর থেকে সোহাগের মা আছমা তার সন্তানদের নিয়ে দুবাই প্রবাসী ভাই আল আমিনের বাড়িতে বসবাস করতেন। মামা প্রবাসে থাকায় সোহাগের মামির প্রতি কুদৃষ্টি পড়ে পাশের বাড়ির তিন যুবকের। তারা কৌশলে সোহাগকে ডেকে নিয়ে বলে তার মামিকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতে।

তিনি আরও জানান, সোহাগ তাদের কথায় রাজি না হয়ে তার মা ও মামিকে বিষয়টি জানায়। এরপর থেকে আসামিরা সোহাগের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গত ৪ ডিসেম্বর মধ্যরাতে বিশেষ প্রয়োজনের কথা বলে ঘর থেকে সোহাগকে ডেকে নিয়ে যান তারা। পরদিন ৫ ডিসেম্বর নানা বাড়ির বসতঘরের পশ্চিম দিকে ধোপাছড়া খালের পানিতে গামছা বাঁধা রক্তাক্ত অবস্থায় সোহাগের ভাসমান মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]