ঘুসের অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়: চিফ প্রসিকিউটর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৯ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম

কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ঘুসের অভিযোগ উঠলে তাতে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া শতভাগ প্রশ্নবিদ্ধ এবং ইমেজ সংকট হয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, অভিযোগের ঘটনার বিষয়টি আমরা অভ্যন্তরীণ তদন্ত করবো। দুর্নীতির সঙ্গে কারও বিন্দু পরিমাণ সংশ্লিষ্টতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

টিমওয়ার্ক কাজে চিফ প্রসিকিউটর দায় এড়াতে পারেন কি না এবং ট্রাইব্যুনাল প্রশ্নবিদ্ধ হয় কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচারাধীন মামলার আসামিকে সুবিধা দেওয়ায় বিষয়ে ঘুস চাওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ঘুস চাওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয় কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ রকম (অনৈতিক) কোনো বিষয় ঘটলে অবশ্যই ট্রাইব্যুনাল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, আমাদের ইমেজ সংকট হয়।

এর আগে সদ্য সাবেক এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে জামিন করিয়ে দেওয়ার জন্য এক কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়। পরে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এসময় তিনি বলেন, আমরা প্রসিকিউটররা বৈঠক করেছি। সেখানে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। (অভিযোগের) বিষয়টি আমরা অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করবো। দুর্নীতির সঙ্গে কারও সুতা পরিমাণ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এটাতো একটা সিরিয়াস অভিযোগ, এই অভিযোগ আমাদের কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠার কথা ছিল না। অভিযোগ যখন উঠেছে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল, আমরা এর প্রশ্রয় কেন দিয়েছি জানি না। হতে পারে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ তার (সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম) কাছে আসেনি, মিডিয়াতে নানা অভিযোগ থাকলেও যতক্ষণ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে না আসবে, আমাদের পক্ষে তো এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকে না।

তিনি আরও বলেন, ঘুসের বিষয়ে যদি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমার কাছে আসে, আইনগতভাবে আমার যতটুকু ক্ষমতা আছে, আমি সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো। যদি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমার কাছে নাও আসে, আমি ব্যক্তিগতভাবে মানে, চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে একটা অভ্যন্তরীণ তদন্ত আমরা করবো, শুধু তাই না; আমি এই পার্টিকুলার বিষয়ে তো তদন্ত করবই, ৫ আগস্টের পর আমাদের এই ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়ার পর আমি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করে সব বিষয় তদন্ত করে দেখব। কোনো অনিয়ম পেলে সেটা আমি আমার কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করবো। এ বিষয়ে প্রয়োজনে সাবেক চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গেও কথা বলবো।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের অভ্যন্তরে জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলায় এক ভয়াবহ ঘুস কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে আসে। ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ড থেকে জানা গেছে, মামলার আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার বিনিময়ে প্রসিকিউশন টিমের সদস্য ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন, যা নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এফএইচ/জেএইচ/এমআইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।