চা-নাস্তা খেতে ১১ হাজার টাকা ঘুষ দাবি!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০১:০৯ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার (হাওর অঞ্চলের অবকাঠমো ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প) হিলিপের সমন্বয়কারী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, চা-নাস্তা করতেই এক ঠিকাদারের কাছে তিনি দাবি করেছেন ১১ হাজার টাকা ঘুষ। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মো. লিটন মিয়া গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে (হাওর অঞ্চলের অবকাঠমো ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প) হিলিপ’র প্রকল্প পরিচালক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন নিবার্হী প্রকৌশলী।

অভিযোগ পত্র থেকে জানা যায়, জেলার নাসিরনগর উপজেলা সদরের চ্যাঙ্গামোড়া সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে দুই বছর আগে। ঘুষ না দেয়ায় আজও কাজের বিল পাচ্ছেন না ঠিকাদার লিটন মিয়া। তাছাড়া অন্য একটি কাজের জন্য জাকির হোসেন দাবি করেন মোটা অংকের টাকা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেও কোনো কিছুই শুনছেন না এই কর্মকর্তা। বরং বিভিন্ন সময় ঘুষ দাবি করে আসছেন হিলিপ কর্মকর্তা জাকির হোসেন। চা-নাস্তা বাবদ ঘুষ দাবি করেছেন ১১ হাজার টাকা।

আরও জানা যায়, হিলিপের একজন সিনিয়র প্রকৌশলীর কারণে তার এমন বেপরোয়া মনোভাব। ওই প্রকৌশলীর জোরেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরকে কোনো ধরনের তোয়াক্কা না করে চালিয়ে যাচ্ছেন তার সকল অপকর্ম।

আবুল কাসেম নামে এক ভুক্তভোগি জানান, ঘুষ না পেয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে জাকির হোসেন আমাকে জেল খাটিয়েছেন। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।

ভুক্তভোগী লিটন মিয়া জানান, ঘুষ না দেয়ায় জাকির হোসেন আমাকে দীর্ঘদিন যাবৎ ঘুরাচ্ছেন। কাজ শেষ করেও কাজের বিল পাচ্ছি না। উল্টো বিভিন্ন সময় ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। কোনো উপায় না পেয়ে আমি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নিবার্হী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।

হিলিপের নাসিরনগর উপজেলা সমন্বয়কারী অভিযুক্ত জাকির হোসেন জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর যদি কোনো প্রতিবেদন আমার বিরুদ্ধে দিয়ে থাকে তাহলে তা একতরফা বলে দাবি করেন তিনি।

এই ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শিরাজুল ইসলাম জানান, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রকল্প পরিচালক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি।

এফএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]