প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দেয়ার অঙ্গীকার করলেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৯:২৯ এএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত পাপুল অধ্যায়ের ইতিতে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আওয়ামী লীগ নেতারা এখন পৌরসভা নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীকে নিয়ে ব্যস্ত। রায়পুর পৌরসভায় ২৮ ফেব্রুয়ারি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে দলীয় মেয়র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাটকে বিজয়ী করতে নেতারা কাজ করছেন।

মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের ৪ বছরের সাজা ও অর্থদণ্ড হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে সোমবার তার সদস্য পদ বাতিল করা হয়। এ খবরেই এমপি মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা আটঘাট বেঁধে ঢাকায় তদবিরে নামবেন। যদিও ইতোমধ্যে ডজনখানেক প্রার্থীর নাম এসেছে সামনে।

এদিকে মেয়র পদে নৌকায় ভোট প্রকাশ্যে দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন ৯টি ওয়ার্ডের ৫৭ জন কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা। রোববার বিকেলে রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেতারা কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে সভা করেন। সেখানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুর নয়নসহ জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার শীর্ষ নেতারা উপস্থিতি ছিলেন।

সভায় কাউন্সিলর প্রার্থীরা কেন্দ্রের ভেতর ইভিএমে নৌকা মার্কায় প্রকাশ্যে ভোট দেবেন এবং এতে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিনিময়ে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কাউন্সিলর ভোটের পরিবেশ চেয়েছেন। নৌকার বিষয়ে সেখানে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরাও আন্তরিক বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

ওই সভায় অংশ নেয়া অন্তত ১৭ জন পুরুষ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

jagonews24

এ প্রসঙ্গে বিএনপি সমর্থিত পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কাশেম বলেন, কেন্দ্রে নৌকার ভোট নেয়ার বিষয়ে আমার আপত্তি নেই। আমি কাউন্সিলর ভোট নিরপেক্ষ চাই। এটা সভায় অন্যসব প্রার্থীদের সঙ্গে আমিও একমত হয়েছি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে বিএনপি-জামায়াত ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশৃঙ্খলা করেছিল। সব ধরনের সহিংসতা এড়াতে আমরা কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে বসেছি। আমাদের মেয়র প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবে। ইতোমধ্যে উপ-নির্বাচন নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। আমরা এখন মেয়র ভোট নিয়ে ব্যস্ত।

বিএনপির পৌরসভা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা আমাদের সমর্থন দেয়া কাউন্সিলর প্রার্থীদের ডেকে নিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়া এবং সহযোগিতা করতে অঙ্গীকার করিয়েছে। তারা আমাদেরকে প্রচার-প্রচারণা চালাতে দিচ্ছে না। আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ চাই।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, মেয়র পদে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৫১ এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছে।

এ ব্যাপারে রায়পুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দিপক বিশ্বাস বলেন, কাউন্সিলর প্রার্থীদেরকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সভা করার বিষয়টি আমি অবগত নয়। প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার করার বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

কাজল কায়েস/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]