লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের অনুমোদন দিল ট্রাস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০২ পিএম, ০৩ মার্চ ২০২১

লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার পোড়াগাছা গুচ্ছগ্রাম এলাকায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমোদন পেয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

বুধবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

ভূমি মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের সোনাপুর-রামগতি সড়কের পাশে, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের প্রচলিত ধারণার বাইরে, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত চর পোড়াগাছায় একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত মুজিববর্ষ স্মারক গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করে প্রবেশপথে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার পরিকল্পনা নিয়েছিল ভূমি মন্ত্রণালয়। এ জন্য বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভ ও আপগ্রেডেড গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের লক্ষ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে সরকারি সফরে বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা নামক স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি এ অঞ্চলের ভূমিহীন, নদীভাঙা ও দুস্থ মানুষের উন্নয়নে গুচ্ছগ্রাম স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি নিজহাতে মাটি কেটে কিল্লা (উঁচু মাটির ঢিবি যাতে বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসের সময় মানুষ ও গবাদিপশু আশ্রয় নিতে পারে) স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন। পরবর্তী সময়ে ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি গুচ্ছগ্রাম স্থাপন করা হয় যার মধ্যে চর পোড়াগাছা অন্যতম।

২০১৯ ও ২০২০ সালে ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভ ও আপগ্রেডেড গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের লক্ষ্যে গঠিত কমিটি’ কর্তৃক উপস্থাপিত সুপারিশমালা, প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান, ত্রিমাত্রিক নকশা এবং স্বতন্ত্র বাড়ির নকশা বাস্তবায়নের বিষয়ে বেশ কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তী সময় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি পরিস্থিতির কারণে এ কার্যক্রম থেমে যায়। কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু স্মারক গুচ্ছগ্রামের অভ্যন্তরে স্থানীয় জনগণের চলাচলের জন্য পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হবে। গ্রামের একপ্রান্তে একটি শিশুপার্কের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি চিন্তা করে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা রাখা হয়েছে।

গুচ্ছগ্রামের বর্তমান মডেলের পরিবর্তে ভূমি মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু স্মারক গুচ্ছগ্রামের মডেলটি ভবিষ্যতে প্রণীতব্য ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অন্তর্ভুক্ত করে দেশব্যাপী আধুনিক গুচ্ছগ্রাম সৃজনের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. তসলীমুল ইসলামসহ ভূমি মন্ত্রণালয় ও অধীন দফতর/সংস্থার প্রধান কিংবা তাদের প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/বিএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]