অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৬:৩৯ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২১
ফাইল ছবি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় স্বপ্না রানী (২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ মার্চ) দুপুরে ওই গৃহবধূর স্বামী পিন্টু বাবু বাদী হয়ে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে এই মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- ঘোড়াঘাট উপজেলার বলগাড়ী গ্রামের আদর্শ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী ডা. নুর আলম ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আলী আকবর। মামলায় আরও ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) বিকেলে ঘোড়াঘাট উপজেলার শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামের পিন্টু বাবু তার স্ত্রী স্বপ্না রানীকে নিয়ে আদর্শ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেকআপ করাতে যান। সে সময় ডা. নুর আলম তার স্ত্রীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করে দ্রুত সিজার করার জন্য বলেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি ফরমে স্বাক্ষর নেয়। এ সময় হাতে নগদ টাকা না থাকায় স্ত্রী স্বপ্না রানীকে হাসপাতালের চেয়ারে বসিয়ে রেখে বলগাড়ী বাজারে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা উঠানোর জন্য যান পিন্টু। কিন্তু টাকা তুলে নিয়ে এসে তিনি স্ত্রীকে সেখানে দেখতে না পেয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা জানান, রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছে।

কিছুক্ষণ পরে ডা. নুর আলম জানান, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত অপারেশন করা হয়েছে এবং একটি কন্যা সন্তান হয়েছে। সন্তান সুস্থ হলেও স্বপ্নার অবস্থা আশঙ্কাজনক। দ্রুত তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হবে। এ সময় হাসপাতালের একটি মাইক্রোবাসে জোর করে স্বপ্না রানীকে উঠিয়ে দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে যেতে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তখন একজন নার্সকে রোগীর সঙ্গে দেয়ার জন্য তাদের কাছে অনুরোধ করা হলেও তারা কোনো নার্স দেননি। সন্ধ্যায় রংপুরে যাওয়ার পথে ধাপেরহাট নামক স্থানে মাইক্রোবাসটি নষ্ট হলে রোগীর স্বজনরা বিকল্প মাইক্রোবাসে তাকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক স্বপ্না রানী মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দীন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অবহেলাজনিত কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমদাদুল হক মিলন/এমআরআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]