সমুদ্রে নিরাপত্তায় প্রশিক্ষণ পেলেন ২০০ নৌযান চালক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৫:১৬ পিএম, ০৬ মার্চ ২০২১

‘সমুদ্রে নিরাপত্তা’ বিষয়ে দুদিনের প্রশিক্ষণ পেলেন কক্সবাজার-মহেশখালী নৌরুটের ২০০ নৌযান চালক। মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন ও সরকারের অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে।

দাতা সংস্থা ব্যুরো অব হিউম্যানিট্যারিয়ান অ্যাসিস্টেন্সের (বিএইচএ) সহযোগিতায় গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবার (৫-৬ মার্চ) মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে এ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্র বন্দরসহ নানা উন্নয়ন কাজ চলছে মহেশখালী জুড়ে। এখানে কর্মরত অনেক সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী যাতায়াতে কক্সবাজার-মহেশখালী নৌরুট ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটক ও উন্নয়ন সংস্থার কর্মীরাও প্রতিনিয়ত এই রুট ব্যবহার করে মহেশখালী ভ্রমণ করেন।

অন্যদিকে, কক্সবাজারের মূল ভূখণ্ডের মতোই মহেশখালী দ্বীপটি ঘূর্ণিঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। উপজেলা প্রশাসনের হিসাবমতে এই দ্বীপের প্রায় তিন লাখ বাসিন্দাদের মধ্যে এক লাখ বাসিন্দাই ঝুঁকিতে বসবাস করছে। তাই কক্সবাজার-মহেশখালী নৌ-পথ এই অঞ্চলের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট।

তাই এ রুটে নৌযান চালিয়ে সেবা নিশ্চিতকারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

jagonews24

প্রশিক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং উপকূলরক্ষীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে।

প্রশিক্ষণটিতে দুটি ব্যাচে প্রতিদিন ১০০ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত হন। পাশাপাশি মহেশখালীর উপজেলা ও ইউনিয়ন ডিএমসির সদস্যরাও প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণ মডিউলটি শেষ করার পরে, আইওএম নৌ-চালকদের সমুদ্র সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করে।

এ সময় মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, ‘কক্সবাজার-মহেশখালী সমুদ্রপথটি ঘূর্ণিঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সমুদ্র সুরক্ষায় আমাদের নৌ-চালকদের সংবেদনশীল করার এই উদ্যোগের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আইওএম মহেশখালীর নানামুখী উন্নয়নে ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতায় কাজ করছে। আমরা আশা করছি এই প্রত্যন্ত দ্বীপের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও নানা জরুরি ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

আইওএম কক্সবাজার কার্যালয়ের ট্রানজিশন অ্যান্ড রিকভারি ডিভিশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর প্যাট্রিক শেরিগনন বলেন, ‘কক্সবাজার-মহেশখালী নৌরুটে কয়েকশত নৌ-চালক কর্মরত আছেন। কিন্তু সমুদ্রে সুরক্ষার বিষয়ে তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নেই। আমরা আশা করি এই উদ্যোগটি কেবল জীবনই রক্ষা করবে না বরং দ্বীপের পর্যটন খাতের জন্যও ভূমিকা রাখবে।’

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে নৌ-চালকরা সমুদ্রে সুরক্ষা সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার, দুর্যোগকালীন ঝুঁকি হ্রাস, মৌলিক অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণ, প্রাথমিক উদ্ধারকাজ, প্রাথমিক উদ্ধার ব্যবস্থা, ঘূর্ণিঝড় শুরুর সতর্কতা ব্যবস্থা এবং আচরণের পরিবর্তন যোগাযোগসহ বিভিন্ন ধরণের বিষয়ে নতুন ধারণা শিখেছে। এছাড়া সমুদ্র সুরক্ষার সরঞ্জাম (লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া, রেডিয়াম স্টিকার, পাওয়ার ব্যাংক এবং টর্চ লাইট) কীভাবে চালনা করতে হয় তাও জানতে পেরেছে।

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]