গৃহকর্ত্রীর নির্মম নির্যাতনে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে চাঁদনী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৮:৪১ এএম, ১১ মার্চ ২০২১
প্রতীকী ছবি

দশ বছর বয়সী শিশু চাঁদনীকে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানো হয়েছিল ঢাকায়। কিন্তু ৯ মাস পর বুধবার (১০ মার্চ) শরীরে দগদগে ঘা নিয়ে সে কুষ্টিয়ায় ফিরেছে। সারা শরীরে নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে বুধবার বিকেলে হাসপাতালের বিছানায় ঠাঁই হয়েছে চাঁদনীর।

চাঁদনী খোকসা উপজেলার বনগ্রাম পশ্চিমপাড়ার হতদরিদ্র তমিজ উদ্দিন তোজার মেয়ে।

শিশুটির পারিবারিক সূত্র জানায়, ৯ মাস আগে একই গ্রামের মাসুদুজ্জামান রান্টুর মেয়ে নেছার মাসিক এক হাজার টাকা বেতন ও খাওয়া-পরার শর্তে এক প্রকার জোর করেই ঢাকার বাসায় কাজের জন্য চাঁদনীকে নিয়ে যায়। কিন্তু ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কদিন পর থেকেই তারা চাঁদনীর পরিবারের সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করা চাঁদনী জানায়, ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার চার দিন পর থেকেই তার উপর গৃহকর্ত্রীর নির্যাতন শুরু হয়। বাসার সব কাজ তাকেই করতে হত। একটু কিছু হলেই তার ওপর নির্যাতন চালানো হতো। খুন্তি গরম করে ছ্যাঁকা দেয়া হত। এমনকি রাতে মারপিটের পর ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে মেঝেতে ফেলে রাখা হত।

চাঁদনীর বাবা তমিজ উদ্দিন তোজা জানান, অনেকটা জোর করেই তারা চাঁদনীকে ঢাকায় নিয়ে যায়। মাসে মাসে মেয়ের পারিশ্রমিক দেয়ার কথা থাকলেও একটা পয়সাও দেয়নি। গত ৯ মাস তাদেরকে চাঁদনীর সাথে যোগাযোগ করতে দেয়নি। অবশেষে গ্রামবাসীদের চাপে বুধবার চাঁদনীকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

খোকসা উপজেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার শামীম মাহমুদ জানান, মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। ধারাবাহিক নির্যাতনের কারণে শারীরিকভাবেও সে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তবে গৃহকর্ত্রী নেছারের বাবা মাসুদুজ্জামান রান্টু দাবি করেন, শিশুটিকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। এগুলো তাদের বিরুদ্ধে গ্রাম্য চক্রান্ত। শিশুটির শরীরে আগে থেকে ঘা, পচড়া ছিল।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নির্যাতনের ঘটনাটি ঢাকায় ঘটেছে। শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকার একটি গ্রুপ বিষয়টি মিমাংসার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আল-মামুন সাগর/এফএ/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।