কুমিল্লায় বাসে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: হতাহতদের অর্থ সহায়তা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে যাত্রীবাহী চলন্ত বাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে শিশুসহ দুইজনের মৃত্যুর ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। এরইমধ্যে কুমিল্লা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। রাতে মোবাইলে এসব তথ্য জানান কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।
তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হতাহতদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। নিহতদের দাফনের জন্য জনপ্রতি ২০ হাজার এবং গুরুতর আহত ৯ জনকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে এরইমধ্যে পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তাদের রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে মতলবগামী মতলব এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দাউদকান্দির গৌরিপুর বাসস্টেশন এলাকায় পৌঁছালে গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে শিশুসহ দুজনের মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ২৫ জন।
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, গাড়িতে বিস্ফোরণের ফলে আহত ২২ জনকে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর ১৭ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ৩-৪ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
ওই দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- দাউদকান্দির তিনপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৭৫) এবং একই উপজেলার বনুয়াকান্দি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে সাফিন (৪)।
হাসপাতালে ভর্তি কামরুল, রমিজ উদ্দিন, জজু মিয়া জানান, তারা বাসের পেছনের কয়েকটি সিটে বসা ছিলেন। বিস্ফোরণ হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আগুন পুরো গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় একটি দরজা দিয়ে সবার বের হওয়ার উপায় ছিল না, তাই অনেকেই নিরুপায় হয়ে বাসের জানালার গ্লাস ভেঙে মাটিতে পড়ে আহত হন। এতে কারও কারও হাত-পা কেটে যায়।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল হক জানান, মরদেহ দুটি দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। শুক্রবার এদের ময়নাতদন্ত করা হবে।
মো. কামাল উদ্দিন/এসআর/এমকেএইচ