মুঠোফোনের ব্যবহার না জানা কৃষক ডিজিটাল মামলার আসামি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ১০:৫৬ এএম, ১৭ মার্চ ২০২১

মোবাইল ফোনই ভালো করে ব্যবহার করতে পারেন না কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের কৃষক আবু জামান। নেই স্মার্টফোন ও কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। এ মামলার আসামি হয়ে ঘরবাড়ি ফেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

আবু জামানের পরিবারের অভিযোগ, যাচাই-বাছাই না করেই মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। এদিকে পুলিশ বলছে, আবু জামানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না গেলে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।

ষাটোর্ধ্ব কৃষক আবু জামানের সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের। তার চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আছেন মাসের পর মাস। স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে দেখা নেই। মাঠে চাষাবাদও করতে পারছেন না তিনি। কান্নায় কথা বলতে পারছিলেন না আবু জামান।

তিনি জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরেই প্রতিবেশী মিজানুর রহমান শিকদার তার নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। এ মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেফতারের জন্য বারবার অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। কিছুদিন আগে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাড়িতে যান তিনি। কিছুক্ষণ পরই সেখানে হাজির পুলিশের গাড়ি। তাই আবার পালিয়ে যান তিনি।

আবু জামান আরও বলেন, ‘আমার ভালো মোবাইল ফোন নেই। নিজে ফোন করতে পারি না। ফেসবুক কী তাও জানি না। অথচ আমি নাকি তার (মিজানুর রহমান শিকদার) মৃত বাবার নামে কী কী ছড়াইছি।’

মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই চান আবু জামান। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

jagonews24

আবু জামানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার বলেন, ‌‘আমাদের বাড়ির জমিটি আত্মসাৎ করার জন্য অনেক দিন ধরে তারা আমাদের নানাভাবে হয়রানি করছে। তার (আবু জামান) নামে এর আগেও ৫টি মামলা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থেকে কয়েক বছর আগে তিনি বাড়ি আসেন। এরপর নতুন করে তার পেছনে লাগে একটি গ্রুপ।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বামী পলাতক। আমরা চরম আতঙ্কে আছি। আমাদের ওপর যেকোনো সময় হামলা হতে পারে।’

আবু জামানের বড় ভাই মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই আবু জামান ফেসবুক ব্যবহার করতে জানেন না। তার কোনো স্মার্টফোনও নেই। অথচ প্রভাবশালীদের মদদে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। চরম আতঙ্কে আছি আমরা।’

গত বছরের ২০ অক্টোবর কটিয়াদী উপজেলা সদরের পশ্চিমপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান শিকদার আল-আমিন ও আবু জামানের নামে কটিয়াদী মডেল থানায় মামলাটি করেন। এতে আসামিরা তাদের মৃত বাবার নামে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী মিজানুর রহমান শিকদার বলেন, ‘আবু জামানের কথায় আল-আমিন নামে এক যুবক আমার মৃত বাবার নামে আপত্তিকর মন্তব্য বিভিন্ন মোবাইলে ম্যাসেঞ্জারে পাঠান। এজন্য তাকেও আসমি করা হয়েছে।’

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম শাহাদৎ হোসেন বলেন, মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।

নূর মোহাম্মদ/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।