স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভবন থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার, আটক ২০
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নিবার্চনে বরগুনার বামনা সদর ইউনিয়নের সোনাখালী বাজারে স্বতন্ত্রপ্রার্থী (ঘোড়া প্রতীক) সোহেল সিকদারের ভবন থেকে নৌকার সমর্থকদের ওপর কমপক্ষে ২০টি ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে বামনা উপজেলা আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অন্তত ৯ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।
বুধবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বামনা উপজেলার সোনাখালী বাজারের বামনা-পাথরঘাটা মহাসড়কে এ ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোহেল সিকদারের ভবন থেকে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২০ জনকে আটক করে পুলিশ।
আহতরা হলেন-বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গোলাম সাব্বির ফেরদৌস তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা, দফতর সম্পাদক কৃষ্ণকান্ত কর্মকার, মানিক কুমার পঙ্কজ, ছাত্রলীগ নেতা হৃদয় দাস, জেলা ছাত্রলীগ সহ- সভাপতি রাজিব হোসেন আব্দুল্লাহ, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোর্শেদ শাহরিয়া গোলদার ও সংবাদকর্মী ফয়সাল সিকদার।
পরে স্বতন্ত্রপ্রার্থীর নিবার্চনী ওই ভবনটিতে ডিবি পুলিশ ও পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম, বেশ কয়েকটি অবিস্ফোরিত ককটেল, ধারালো চাকু, একটি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে।
আটকরা হলেন-স্বতন্ত্রপ্রার্থী (ঘোড়া প্রতীকের) সোহেল সিকদার, স্বতন্ত্রপ্রার্থী (মোটরসাইকেল প্রতীক) তরিকুজ্জামান সোহাগ, ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক রাফান জোমাদ্দার আকাশ, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থক রাজ্জাক মল্লিক, সিদ্দিক ভুইয়া, শাওন, নিরু মল্লিক, শাহজাহান মল্লিক, আলমগীর, ইমরান, সোহাগ, সাগরসহ আরও অজ্ঞাত ৮ জন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, বুধবার দুপুর ১টায় দক্ষিণ আমতলী গ্রামে রহিম হাওলাদারের বাড়ির সামনে ককটেল নিক্ষেপের খবর পেয়ে সেখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে তারা যখন সোনাখালী বাজারে মহাসড়কে পৌঁছান, তখন স্বতন্ত্রপ্রার্থীর নিবার্চনী ভবনের দোতালা থেকে ৭-৮টি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে হৃদয় দাশ (২০) নামের এক ছাত্রলীগ নেতার ডান হাত গুরুতর জখম হয়। পরে থেমে থেমে আরও কয়েক দফায় ককটেল বিস্ফোরণ করা হয় ওই ভবনটির দোতলা থেকে। এতে বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গোলম সাব্বির ফেরদৌস তালুকদারের ডান পা ক্ষতবিক্ষত হয়। এ ঘটনায় ৯ জন গুরুতর আহত হন।
পরে বরগুনা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরমের নেতৃত্বে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ওই ভবনটিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম, বেশ কয়েকটি অবিস্ফোরিত ককটেল, ধারালো চাকু, একটি পিস্তল ও এক ম্যাগাজিন উদ্ধার করে। এছাড়া ভবনটির ভেতরে অবস্থানরত দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২০ জনকে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান চৌধুরী কামরুজ্জামান সগির বলেন, ‘আমার নেতাকর্মীদের ওপর ককটেল নিক্ষেপের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে হতবাক হয়ে গেছি। আমাকে লক্ষ্য করেও বেশ কয়েকবার ককটেল ছোড়া হয়েছিল। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’
বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘স্বতন্ত্রপ্রার্থীর নিবার্চনী ভবনটি থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও পিস্তলসহ বেশ কয়েকটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এসআর/এএসএম