প্রেমের ফাঁদে পা দিয়ে অন্তরঙ্গ ছবি ফেসবুকে, গ্রাম ছাড়া গৃহবধূ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৭:০২ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০২১
অভিযুক্ত বাছেদ মিয়া

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ৩ নম্বর বন্দবেড় ইউনিয়নে বাছেদ মিয়া নামের এক কাপড় ব্যবসায়ীর প্রেমের ফাঁদে পা দিয়ে গ্রাম ছাড়া হয়েছেন এক গৃহবধূ। খুইয়েছেন টাকাও। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তারে সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। অন্তরঙ্গ মূহুর্তের ছবি মোবাইলে ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন বাছেদ।

অসহায় হয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ওই নারী। গত ২০ দিন যাবত বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাইটকামারী গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে কাপড় ব্যবসায়ী বাছেদ মিয়া (৩২) গৃহবধূকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তাদের এই প্রেমের সম্পর্কের কথা অনেকেই জানতেন।

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, ‘আমার প্রথম বিয়ের পর বাইটকামারী বাজারে জামা-কাপড় কেনাকাটা করা হতো বাছেদের দোকানে। সেই সুবাদে হঠাৎ একদিন বিকেলে সুযোগ বুঝে আমার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে বাছেদ। এ সময় আমার ভাশুর বাড়িতে আসলে পালিয়ে যায় সে। এতে আমাকে সন্দেহ করেন ভাসুর।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সূত্রধরে আমাকে তালাক দেয় আমার স্বামী। এর কিছু দিন পর আমার দ্বিতীয় বিয়ে হয় আজগর আলীর সঙ্গ। আজগর আলী ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করার কারণে বেশি সময় আমাকে বাবার বাড়িতেই থাকতে হতো। এ অবস্থায় বাছেদ আবার বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। আমি তার অসৎ উদ্দেশ্য বুজতে না পেরে তার প্রেমের ফাঁদে পা দেই। তার পরামর্শ মোতাবেক প্রথমে আমি আমার স্বামীকে তালাক দেই। পরে সে আমাকে এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে নিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং মোবাইলে আপত্তিকর ছবি ওঠায়।’

ওই নারী বলেন, ‘পরে আমি বিয়ে করার চাপ দিলে আমার কাছ থেকে দামি মোবাইল সেটসহ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। আমি বিভিন্ন সময় আমার গহনা বিক্রি করে তিনটি স্মার্ট মোবাইল সেট ও ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বাছেদকে দেই। এর পরও সে আমাকে বিয়ে না করে বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করে। বিয়ের চাপ দিলে আমার সঙ্গে তোলা আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখায়। পরবর্তীতে তাই তাই করে সে।’

এ বিষয়ে ৩ নম্বর বন্দবেড় ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। তবে শুনেছি উভয় পক্ষ মীমাংসা করে নিয়েছে।’

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোন্তাছের বিল্লাহ বলেন, ‘ভুক্তভোগী ওই নারী শুক্রবার (৯ এপ্রিল) বাদী হয়ে রৌমারী থানায় মামলা দায়ের করেছে। আমরা আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছি।’

মো. মাসুদ রানা/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]