দুর্গম পাহাড়ি মেয়ের স্বর্ণজয়ের গল্প

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাঙ্গামাটি
প্রকাশিত: ০১:০৩ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২১

৩ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয় মাইনু মারমা। মাধ্যমিকের শুরুতে পড়ালেখা চলাকালীন ২০০৩ সালে পাড়ি জমান ঢাকায়। যোগ দেন বাংলাদেশ আনসার বাহিনীতে। সৈনিক হিসেবে নয়; ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে। ২০০৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ মহিলা আনসার দলের ৭ নম্বর জার্সিতে মাঠ কাঁপিয়েছেন। একই সময়ে লাল সবুজের জার্সি গায়েও মাঠ কাঁপিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা দলের খেলোয়াড় হিসেবে। শুধু ফুটবলই নয়; পাশাপাশি শুরু করেন তায়কোয়ান্দো।

এর মাঝেই বিয়ে, সংসার, অতঃপর ২০১৭ সালে কন্যা সন্তানের মা। এখানেই শেষ হতে পারত ক্রীড়া জীবন। কিন্তু থেমে যাওয়ার মেয়ে নন তিনি। আবার শুরু করেন নতুন ধারায়, নতুনত্বের দিকে। ফুটবলের পাশাপাশি তায়কোয়ান্দো খেলায় গভীর মনোনিবেশ করেন। অল্প সময়ে কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে ফিট করে বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস ২০২০-এ জিতে নিয়েছেন দুই-দু’টি স্বর্ণ পদক।

মাইনু মারমা রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদরের দুর্গম গ্রাম কচুখালী এলাকার নিহ্লাঅং মারমা ও চিংম্রাউ মারমার সন্তান। নিংহ্লাঅং মারমার ৬ সদস্যের পরিবারের বড় মেয়ে উনুপ্রু মারমা, তারপর সুইনুপ্রু মারমা, মাইনু মারমা ও উসিংমং মারমা বাবলু।

বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস ২০২০ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা হয় মাইনু মারমার সাথে। কথা হয় তার বড় বোন সুইনুপ্রু মারমার সাথেও।

সুইনুপ্রু জানালেন দুই বোনের খোলোয়াড়ি জীবনের সফলতার গল্প। ২০০৩ সালে একই সাথে কাউখালী ছেড়ে দুইবোন খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন আনসার বাহিনীতে। যোগ্যতার বলে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলেও।

সুইনুপ্রু মারমা, মাইন প্রুর আপন বড়বোন। তিনি ২০০৩ সালে আনসার মহিলা ফুটবল দলে যোগ দিয়ে মাত্র ২ বছরের মাথায় জায়গা করে নেন জাতীয় মহিলা ফুটবল দলে। আদায় করে নেন ১০ নম্বর জার্সি। ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত খেলেন জাতীয় দলের হয়ে। জাতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত। বর্তমানে তিনি এএফসি কর্তৃক কোচিংয়ে ডিপ্লোমা পার্ট-১ সম্পন্ন করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন টেকনিক্যাল ডিপার্টমেন্ট হেড অফ উইমেন্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি মহিলা ফুটবল দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুইনুপ্রু।

এদিকে ২০০৬ সালে শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়া গেমসে বাংলাদেশের হয়ে তায়কোয়ান্দোতে অংশগ্রহণ দিয়ে শুরু হয় মাইনু মারমার আন্তর্জাতিক অঙ্গন। সেবার সফলতা না এলেও হাল ছাড়েননি তিনি। ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস ২০২০ এ তায়কোয়ান্দোতে একক ও দলীয়ভাবে ৭ এপ্রিল ২টি স্বর্ণ পদক নিজের করে নেন মাইনু।

লাল সবুজের জার্সি গায়ে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবলে ২০১০ সালের সাউথ এশিয়া গেমসে ব্রোঞ্জ, ২০১৬ সালে ব্রোঞ্জ ও ২০১৭ সালে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যকার খেলায় রৌপ্য পেতে বিশেষ অবদান রাখেন তিনি। বর্তমানে মাইনু এফসি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্লাবের হয়ে প্রিমিয়ারলীগ খেলছেন। দিচ্ছেন এই দলের নেতৃত্বও।

মাইনু এই প্রতিবেদককে জানালেন তার স্বপ্নের কথা। বললেন সাউথ এশিয়া গেমসে স্বর্ণ জয়ই তার বর্তমান লক্ষ্য। এজন্য কঠোর পরিশ্রম আর অনুশীলনের মাধ্যমে প্রস্তুতও করছেন নিজেকে। সৃষ্টিকর্তা সহায় থাকলে সামনের সাউথ এশিয়া গেমসেই স্বর্ণ জয় করে তাক লাগিয়ে দিতে চান সবাইকে। এজন্য সকলের কাছে আশীর্বাদ চেয়েছেন মাইনু।

শংকর হোড়/এফএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]